ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বিশ্বকাপে নতুন বলের গোলকধাঁধায় দিশেহারা সেরা তারকারা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:২১ পিএম

উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি তবে ‘ছোট দলের বড় গোলরক্ষকদের’ বিশ্বকাপ? টুর্নামেন্টের গতিপ্রকৃতি দেখে এমন প্রশ্ন তোলা মোটেও অমূলক নয়। স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দিয়েছেন কেপ ভার্দের দুর্দান্ত গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। অন্যদিকে, পুঁচকে কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রম এক ম্যাচেই অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভ দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এমনকি শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য রুখে দেওয়ার পেছনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইরানের আলীরেজা বেইরানভান্দ। তথাকথিত ‘ছোট’ দলগুলোর এই গ্লাভস যোদ্ধারা যখন একের পর এক অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছেন, ঠিক তখনই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছেন বিশ্ব ফুটবলের চেনা বড় নামগুলো।

ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, সেনেগালের এদুয়ার্দো মেন্দি, বেলজিয়ামের থিবো কর্তোয়া কিংবা জার্মানির কিংবদন্তি মানুয়েল নয়্যার—বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নামের প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করতে পারছেন না কেউই। একের পর এক দৃষ্টিকটু ভুলে গোল হজম করছেন তারা। অনেকের মতে, বয়স বাড়ার কারণে তাদের পারফরম্যান্সে মরিচা ধরেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ব্যর্থতার পেছনে কেবলই কি বয়সের ছাপ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? খোদ প্রখ্যাত গোলকিপাররাই এবার আঙুল তুলছেন বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলের দিকে। প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপের বল ‘ত্রিওনদা’ (Trionda) ঠিক আছে তো?


প্রযুক্তির ‘ত্রিওনদা’ ও সেলাইহীন প্যানেলের গোলকধাঁধা

প্রতি বিশ্বকাপের মতো এবারও ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘অ্যাডিডাস’ (Adidas) তৈরি করেছে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল বল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ত্রিওনদা’। নিত্যনতুন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বলটিকে নিখুঁত করার দাবি করেছিল ফিফা। এই বলের ভেতরে থাকা বিশেষ মাইক্রোচিপ ও ‘স্নিকোমিটার’ প্রযুক্তির সাহায্যে চুল পরিমাণ অফসাইড কিংবা সামান্যতম হ্যান্ডবলও নিখুঁতভাবে ধরা পড়ছে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিতে। কিন্তু মাঠের খেলায় গোলরক্ষকদের জন্য এই বলই যেন ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বলের গতিপ্রকৃতি ও অ্যারোডাইনামিকস নিয়ে প্রথম গুরুতর অভিযোগটি তুলেছেন ডেনমার্কের প্রিমিয়ার লিগজয়ী সাবেক তারকা গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল। এই বলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে, যখন চেক রিপাবলিকের কাছে হেরে ডেনমার্কের বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যায়। স্মাইকেলের মতে, বলটির গঠনশৈলীই গোলরক্ষকদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন:


"এই বলটি তৈরি করা হয়েছে মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে। এতে কোনো প্রথাগত সেলাই নেই, তাপ দিয়ে একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়েছে (Thermally Bonded)। ফলে যখন ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুর ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলা হয়, তখন বাতাসের গতিবেগের সাথে মিলে বলটি স্বাভাবিকভাবে ঘোরে না (Spin)। বাতাসে এটি সাধারণ বলের চেয়ে কম ভাসে। ফলে বলের গতি অনুমান করতে গোলরক্ষকের যদি এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশও তারতম্য হয়, তাতেই গোল হয়ে যায়।"

জো হার্টের বিস্ফোরক দাবি ও ১৯৯৪ সালের রেকর্ড স্পর্শের আনাগোনা

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিকফোর্ড, লিওনেল মেসির শটের সামনে লুকা জিদান কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলার মুখে এদুয়ার্দু মেন্দি—সবাইকেই একই অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বলের লাইন সোজা দেখলেও শেষ মুহূর্তে বাতাসে বলের সামান্য দিক পরিবর্তনের (Knuckle Effect) কারণে তারা বলের নাগাল পাননি।

ইংল্যান্ডের সাবেক একসময়ের ভরসার পাত্র ও বিখ্যাত গোলরক্ষক জো হার্ট একটি পডকাস্টে এই বল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন:


"এই বিশ্বকাপে আমি এমন কিছু দৃশ্য দেখছি যা ক্যারিয়ারে আগে কখনো দেখিনি। বিশ্বমানের গোলরক্ষকেরা সহজ শটগুলো লাইনে থেকে হাতে লাগাতে পারছেন, কিন্তু বলের রহস্যময় গতির কারণে তা গ্রিপ করতে পারছেন না। বল হাতে লেগে ঠিকই জালে ঢুকে যাচ্ছে। বিশ্বকাপে পর্দার আড়ালে বল নিয়ে কিছু একটা ঘটছে, যা আমরা সাধারণ চোখে বুঝতে পারছি না।"

চলমান বিশ্বকাপে বলের এই অদ্ভুত আচরণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে দূরপাল্লার গোলের পরিসংখ্যানে। গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল হয়েছে মোট ২৮টি! উল্লেখ্য, এক বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ ৩০টি গোলের রেকর্ড হয়েছিল ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। ৩২ বছর পর আবারও যখন বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকায় ফিরল, তখন সেই রেকর্ড ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়া কেবল গোলরক্ষকের সরাসরি পজিশনিংয়ের ভুল এবং বলে হাত লাগার পরও গোল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে রেকর্ড ১২ বার। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে এই ‘ত্রিওনদা’ বল আর কত বড় বড় গোলকিপারের কপাল পোড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর