ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

৫ মিনিটে ধ্বংস সেনেগালের স্বপ্ন, অবিশ্বাস্য জয়ে শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:১৪ এএম

ফুটবল যে চরম নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চের খেলা, তা আরও একবার প্রমাণ করলো বেলজিয়াম ও সেনেগালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে যখন কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল সেনেগাল, ঠিক তখনই শুরু হয় বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য রূপকথা। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলসহ ৩-২ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের রেড ডেভিলরা। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষেও একইভাবে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জিতেছিল বেলজিয়াম।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ম্যাচের ৩ ও ৬ মিনিটে জেরেমি ডোকু এবং লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের আক্রমণ সেনেগালের রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়। অন্যদিকে ১১ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস কাজে লাগাতে পারেনি সেনেগাল। তবে ১৩ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় আফ্রিকার দলটি; জ্যাকবসের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের দুর্দান্ত হেড বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার হাতে লেগে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি শটটি সাইড নেটে মারেন সার।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। সাদিও মানের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের জোরালো হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে, সুযোগসন্ধানী হাবিব দিয়ারা নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে সেনেগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। গোল হজমের পর বেলজিয়াম কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়লেও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁকানো শট চমৎকার ডাইভে রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক ইহসান দিয়াও।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামের ডাগআউটে আসে পরিবর্তন; চার্লস ডি কেটেলারের পরিবর্তে মাঠে নামেন তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। তবে ম্যাচের ৫১ মিনিটে মুসা নিয়াখাতের দূরপাল্লার পাস অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জোরালো শটে সেনেগালকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইসমাইলা সার।

দুই গোল খেয়ে মরিয়া বেলজিয়াম একের পর এক খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে থাকে। ৭৮ মিনিটে দোদি লুকেবাকিওর একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৫ মিনিটে সাদিও মানে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা নস্যাৎ করে দেন কোর্তোয়া।

এরপরই শুরু হয় বেলজিয়ামের আসল ম্যাজিক। ৮৬ মিনিটে দিয়েগো মোরেইরার পাস থেকে থমাস মুনিয়ার নিচু ক্রস বাড়ালে, প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠান রোমেলু লুকাকু। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১। ঠিক তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস লুফে নিতে ব্যর্থ হন সেনেগালের গোলরক্ষক ইহসান দিয়াও। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে হেডের মাধ্যমে গোল করে বেলজিয়ামকে ২-২ সমতায় ফেরান ইউরি তিলেমান্স।

নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। ১১৭ মিনিটে লুকেবাকিওর একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের চরম নাটকীয়তা তৈরি হয় ১২০+২ মিনিটে, যখন ভিএআরের (VAR) সহায়তায় বক্সের ভেতর ইউরি তিলেমান্সকে ফাউল করার কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ১২০+৫ মিনিটে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত করেন সেই তিলেমান্স। শেষ মুহূর্তে সেনেগাল একটি ফ্রি-কিক পেলেও তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।


এ সম্পর্কিত আরো খবর