চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষা নির্বিঘ্ন, স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারির ক্ষেত্রে জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশনা। এবার প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো কক্ষেই দুজনের কম পরিদর্শক থাকার সুযোগ নেই। আসন বিন্যাসেও কঠোরতা আনা হয়েছে; ৫ বাই ৬ ফুট বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছেন। তবে বিশেষ কোনো কারণে কেউ দেরিতে পৌঁছালে, তার তথ্য রেজিস্টারে লিখে রেখে তবেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের সুরক্ষাবলয় তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগেই ট্রেজারি বা থানার লকারে থাকা প্রশ্নপত্র যাচাই করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে আনা হয়। এরপর বোর্ডের সেট কোড পাওয়ার পর তবেই প্রশ্নপত্রের খাম খোলার নিয়ম করা হয়েছে। নির্দেশনার বাইরে অন্য সেটে পরীক্ষা নিলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড ও ডিভাইসের যাবতীয় তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রে মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত সাধারণ ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস সাথে রাখতে পারবেন না।
পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যোগাযোগের নম্বরগুলো হলো: ০২-২২৩৩৬৯৮১৫, ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ এবং ০১৭৫৬১০৩১৫২। এছাড়া controller@dhakaeducationboard.gov.bd ই-মেইলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নকল বা প্রশ্নফাঁসের মতো যেকোনো অপরাধ রুখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাকেও অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।’