ম্যাচের একটা বড় সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও মাঠ ছাড়েনি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেল বিশ্বকাপের তিন যৌথ আয়োজক দেশের স্বপ্ন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আগেই মেক্সিকো ও কানাডা নকআউট পর্বের টিকিট নিজেদের করে নিয়েছে। এবার স্বাগতিক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শেষ ষোলোতে পা রাখলো।
সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৪৫ মিনিটে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন ফ্লোরিয়ান বালোগান। বক্সের ভেতর বল পেয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়ে নিখুঁত শটে তার পায়ের ফাঁক গলে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
তবে বিরতির পর বড় ধরনের ধাক্কা খায় আমেরিকান শিবির। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে প্রথম গোলের নায়ক বালোগান নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হতে যাচ্ছিলেন। এরিয়াল বল দখলের এক লড়াইয়ে বসনিয়ার মুহারোমোভিচের পায়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন তিনি। রেফারি ভিএআরের (VAR) সহায়তা নিয়ে ফাউলের মুহূর্তটি দেখার পর বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
ফলস্বরূপ, ম্যাচের বাকি ২৫ মিনিটেরও বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এই সুযোগের কোনো সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের জমাট রক্ষণ ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় তারা। সমতায় ফেরার বদলে উল্টো আরেকটি গোল হজম করে বসে ইউরোপের দেশটি। ম্যাচের ৮২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত ফ্রি কিকে চোখধাঁধানো গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন মালিক টিলম্যান।
অবশ্য অফসাইডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি গোল বাতিল না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। রয়টার্সের ক্যামেরায় ধরা পড়া টিলম্যান ও তার সতীর্থদের উল্লাসের ছবিই বলে দিচ্ছিল, এই জয় তাদের জন্য কতটা স্পেশাল ছিল।