ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার তারিক মুহারেমিভিচের ডান গোড়ালিতে বালোগুনের বুটের স্টাড লেগে যাওয়ার পর মাঠের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে কোনো কার্ড দেখাননি। তবে ভিএআর প্রযুক্তির হস্তক্ষেপে অন-ফিল্ড ভিডিও রিভিউ দেখার পর তিনি সরাসরি লাল কার্ড বের করেন। এই সিদ্ধান্তের পর ডাগআউটে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের হেড কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না! প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য থাকলে আমি মেনে নিতাম। কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ছিল না। ফুটবলে বল দখলের লড়াইয়ের সময় পা নিচে নামার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল এটি।’
এই লাল কার্ডের ফলে আগামী সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ শেষ ১৬-র ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকছেন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী এই সাসপেনশনের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে।
এদিকে বালোগুনের এই লাল কার্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন ফুটবল ভক্তরা। চলতি বিশ্বকাপেরই গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির করা একই ধরণের একটি ফাউলের উদাহরণ টেনে এনে ফিফার রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ঈসা মান্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে পেছন থেকে একটি অপ্রস্তুত ট্যাকল করেছিলেন মেসি। সে সময় মেসির পা সরাসরি মান্দির ডান কাফ এবং অ্যাকিলিস টেন্ডনের ওপর গিয়ে পড়ে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির বুট মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত হেনেছে।
পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো হলুদ কার্ডও দেখাননি। আলজেরিয়া বেঞ্চের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভিএআর টিম তখন মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের কোনো পরামর্শ দেয়নি। এবার বালোগুনকে একই ধরণের ফাউলের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেওয়ায় ভক্তরা ফিফার এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং বৈষম্যমূলক রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
অবশ্য মাঠের বাইরের এই বিতর্ককে খেলার ওপর ভর করতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের অনবদ্য নেতৃত্ব এবং দলের লড়াকু মানসিকতার ওপর ভর করে বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে তারা। এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মূল লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পচেত্তিনোর দল।