ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

রাশিয়া-ইউক্রেনকে টপকে দেশের গম আমদানিতে শীর্ষে আর্জেন্টিনা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৩৪ এএম

চার বছর আগে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের গম আমদানির চেনা উৎসগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল। বিশ্বরাজনীতির সেই ভূরাজনৈতিক বদলের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক প্রতিফলন দেখা গেল সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে। দেশের বাণিজ্য ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী গম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের গম আমদানির একক শীর্ষ উৎসে পরিণত হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ মোট ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গম আমদানির রেকর্ড। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই বিশাল খাদ্যশস্যের আমদানি এক লাফে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আর এই বিশাল আমদানিকৃত গমের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশই এককভাবে এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে।

একসময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গমের বাজার ও আমদানির প্রধান দুই ভরসা ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। প্রায় প্রতিটি অর্থবছরেই এই দুই দেশের যেকোনো একটি শীর্ষস্থান দখল করে রাখত। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বিশ্ববাজারে গম সরবরাহ ও শিপমেন্টে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় আমদানিকারকেরা গমের বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজতে শুরু করেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই বিকল্প বাজারই এখন বাংলাদেশের গমের প্রধান উৎসে রূপ নিয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ আগে মূলত সয়াবিন তেল বেশি আমদানি করত। তবে এবার তেলকে ছাড়িয়ে সেই তালিকায় বড় পরিসরে যুক্ত হলো গম। আগে হাতে গোনা কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশ থেকে গম আনলেও, বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড ৪৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক এই বাজার পরিবর্তনের বিষয়ে বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওই অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্য আমদানিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমাতেই আমরা আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলকে বিকল্প নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে মোট ২২ লাখ টন গম আমদানি করা হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে বাংলাদেশের মোট গম আমদানির ৪৪ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে, সেখানে গত অর্থবছরে রাশিয়া থেকে আমদানি নাটকীয়ভাবে কমে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টনে নেমে এসেছে, যা মোট আমদানির মাত্র ২৩ শতাংশ।

বাংলাদেশে মূলত নরম গমের অন্যতম উৎস হিসেবে রাশিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ব্রাজিল পরিচিত। তবে রাশিয়া-ইউক্রেনীয় গমের বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ আর্জেন্টিনা দখল করলেও, আরেক ল্যাটিন দেশ ব্রাজিলও এই বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে, তবে তা অত্যন্ত ধীরগতিতে। বিদায়ী অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন গম এসেছে, যা মোট আমদানির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর ফলে দেশটি গম আমদানির উৎসে সপ্তম থেকে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে। মজার ব্যাপার হলো, গত অর্থবছরে গড়ে সবচেয়ে কম দামে অর্থাৎ টনপ্রতি মাত্র ২৫৫ ডলারে গম সরবরাহ করেছে ব্রাজিল। যেখানে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এই দাম ছিল ২৫৭ ডলার। তা সত্ত্বেও কম দামের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিল এখনো বাংলাদেশের বড় উৎসে পরিণত হতে পারেনি।

এদিকে, উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ শক্ত গমের ক্ষেত্রে দেশীয় ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ এখনো কানাডা। বিদায়ী অর্থবছরে কানাডা থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির সাড়ে ২২ শতাংশ এবং দেশ হিসেবে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে এই বাজারে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গম আমদানি না হলেও, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশটি থেকে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টন গম এসেছে, যা মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। মূলত সরকারি উদ্যোগে গম আমদানির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে এবং তারা চতুর্থ বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসে এক বড় বৈচিত্র্য এনেছে, যা দেশের খাদ্য সরবরাহের একক দেশের ওপর নির্ভরতা ও ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর