বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে প্রথমবার অংশ নিয়েই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রূপকথার মতো এক অকুতোভয় লড়াই উপহার দিয়েছে কেপ ভার্দে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭তম স্থানে থাকা দলটি আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে সমতায় ফেরে। কেপ ভার্দের এই লড়াকু মনোভাবের কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ছাড়িয়ে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পুরো ম্যাচ জুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া একের পর এক অনবদ্য ও দুর্দান্ত সেভ করে যেন মাঠের বুকে এক নতুন ইতিহাস লিখছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিটের এক অতি নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে তারা ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হলেও, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চরম এক অগ্নিপরীক্ষা এবং ভোগান্তির মুখে ফেলেই মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকার এই প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের এমন বীরত্বপূর্ণ ফুটবল এবং নিজের দলের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াকু মানসিকতার তীব্র প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমাদের এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—তারা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কখনো হার মানতে জানে না এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। কেপ ভার্দের মতো একটি লড়াকু দলের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির। বিশেষ করে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার ডাগআউটে প্রধান কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ। নিজের এই বিশেষ মাইলফলকের স্মারক ম্যাচটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার শততম ম্যাচের মতো একটি বিশেষ দিনে যদি দল হেরে যেত, তবে বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত অদ্ভুত এবং মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টের লাগত। কিন্তু দিনশেষে এটাই ফুটবল এবং এখানে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।
কেপ ভার্দের ফুটবলারদের মাঠের নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড আরও বলেন, কৌশলগত ও শারীরিক দিক থেকে এটি ছিল আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন এবং জটিল একটি ম্যাচ। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমাদের সবসময় মাঠের ইতিবাচক দিকগুলোর দিকেই নজর দিতে হবে। আমি আমাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে তাদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য মন থেকে অভিনন্দন জানাই। ফুটবল বিশ্বে প্রায়শই একটি কথা প্রচলিত আছে যে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো ম্যাচই সহজ নয় এবং কোনো প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই; আজ কেপ ভার্দে মাঠের পারফরম্যান্সে সেটিই শতভাগ প্রমাণ করে ছেড়েছে। তারা সত্যিই একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং দুর্দান্ত দল।
ম্যাচে নিজের শিষ্যদের শারীরিক পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং মানসিক শক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড় মাঠের ভেতরে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। এই তীব্র স্নায়ুচাপের ম্যাচে শারীরিকভাবে আমাদের ফুটবলারদের খুব কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। একই সাথে মাঠের চরম কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে না গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে অসীম সাহস তারা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের এমন লড়াকু চরিত্র ও আবেগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই বিশ্বজয়ী কোচ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আসলে এটাই হলো আর্জেন্টিনা। যারা এই দলটিকে মন থেকে ভালোবাসে না বা বোঝে না, তাদের জন্য আলবিসেলেস্তেদের এই ফুটবলীয় আবেগ অনুধাবন করা খুবই কঠিন। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুব ভালো করেই জানি যে, বিশ্বফুটবলের চূড়ায় পৌঁছানোর আমাদের এই পথচলা কখনই সহজ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও সহজ হবে না।