ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইউরোপে রেকর্ড তাপপ্রবাহের তাণ্ডব: ৩৭০০ মানুষের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:১২ পিএম

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে ইউরোপ মহাদেশে এক নজিরবিহীন ও প্রলয়ংকরী তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত জুন মাসের মাত্র আট দিনের তীব্র দাবদাহে ইউরোপের তিন উন্নত রাষ্ট্র ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসে ৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই আট দিনের তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পুরো ইউরোপের জনজীবন। মহাদেশটির স্বাভাবিক জলবায়ুর তুলনায় এই তাপমাত্রা ছিল সম্পূর্ণ সহনশীলতার বাইরে। তীব্র গরমের কারণে সেখানে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যায়, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থায়িত্ব ও তীব্রতার দিক থেকে এবারের তাপপ্রবাহটি ইউরোপের ইতিহাসে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক ছিল। এটি কেবল জনস্বাস্থ্যকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, বরং বিভিন্ন দেশের মৌলিক অবকাঠামো ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুরোপুরি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, মৃতদের প্রত্যেকেই আগে থেকে কোনো না কোনো ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন, তীব্র দাবদাহের কারণে যা হঠাৎ করেই মারাত্মক রূপ নেয়।

ভয়াবহ এই প্রাণহানির সিংহভাগই ঘটেছে ফ্রান্সে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট গতকাল শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, জুনের আট দিনের এই তীব্র গরমে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের মাঝে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনের ব্যবধানে দেশটিতে ১ হাজার ২০০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩০ জনের বয়সই ৮৫ বছরের বেশি এবং ১৮০ জন ছিলেন ৬৫ বছরের কম বয়সী। বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকালে এই মাত্রায় অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা তাদের দেশের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এছাড়া, নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে তীব্র দাবদাহের কবলে পড়ে সেখানে ৪৮০ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ছিল ৮০ বছরের ওপরে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর