ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষের শক্তির পাশাপাশি প্রকৃতির বৈরিতাও ভাবিয়ে তুলছে ফ্রান্সকে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন ফিলাডেলফিয়ার তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এমনকি খেলা শুরুর ঠিক এক বা দুই ঘণ্টা আগে এই পারদ আরও ওপরে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন চরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ফরাসিদের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। সেবার ঘরের মাঠে প্রথমবার শিরোপা জয়ের পথে এই প্যারাগুয়েকেই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে হারিয়েছিল ফরাসিরা। তবে ২৮ বছর আগের সেই সুখস্মৃতি ফিলাডেলফিয়ার মাঠে কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না বলে মনে করেন দেশম। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাব বিশ্বকাপ দেখতে এসে এখানকার তীব্র গরমের অভিজ্ঞতা হয়েছিল ফরাসি কোচের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ। সে সময় গ্যালারিতে বসে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, তা খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছিলেন তিনি।
দেশম অকপটে বলেন, মাত্রাতিরিক্ত গরম, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা কিংবা অতিরিক্ত শক্ত পিচ কখনোই ফুটবলারদের স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নয়। এটি আদর্শ পরিবেশ না হলেও যেহেতু বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই এই বৈরী পরিস্থিতির সঙ্গেই দ্রুত মানিয়ে নিয়ে সেরা ফুটবল খেলতে হবে। ১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে দেশম নিজে মাঠে ফরাসিদের অধিনায়কত্ব করেছিলেন, আর এবার তিনি থাকবেন ডাগআউটে। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্যারাগুয়ে দলটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তাদের লক্ষ্য ছোঁয়ার মতো পর্যাপ্ত সামর্থ্য ও মান রয়েছে।
দলের ২১ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার দিজিরে দুয়েঁও কোচের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। তিনি জানান, তীব্র গরমের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও শক্তি অপচয় হচ্ছে, যা মাঠে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে। তবে জার্মানিকে বিদায় করে দেওয়া প্যারাগুয়েকে সমীহ করলেও ফরাসি শিবির কোনো বাড়তি চাপ নিচ্ছে না। দুয়েঁ জানান, শুরু থেকেই ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার এবং আগামীকালও তারা ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। কন্ডিশন দুই দলের জন্যই সমান কঠিন হলেও সব বাধা পেরিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ফরাসিরা শতভাগ প্রস্তুত।
আকাশজমিন / আরআর