ডালাসে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে মিসর ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে মিসরের রাইটব্যাক মোহামেদ হানি আত্মঘাতী গোল করলে সেটি ১৩তম গোল হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এরপর মায়ামিতে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচে ১১১তম মিনিটে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেস আরও একটি আত্মঘাতী গোল করেন। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল। এখনো টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়ায় এই রেকর্ড আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এত আত্মঘাতী গোলের কারণসমূহ: বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, এবারের আসরে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় ম্যাচের সংখ্যা ৮৮ থেকে ১০৪-এ উন্নীত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ বেশি হওয়ায় ভুলের সংখ্যাও বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির উৎকর্ষ। ভিএআর (VAR) এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তির কারণে এখন বল কার পায়ে লেগে জালে ঢুকেছে, তা সূক্ষ্মভাবে ধরা পড়ছে। ফলে আগে যেসব গোল নিয়ে বিতর্ক ছিল, এখন তা স্পষ্ট আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
কৌশলগত দিক থেকে ফুটবলের আধুনিক ধরনও এর জন্য দায়ী। এখনকার ফরোয়ার্ডরা বাইলাইন পর্যন্ত গিয়ে আড়াআড়ি বল বাড়ান, যা ঠেকাতে ডিফেন্ডারদের বাধ্য হয়ে নিজেদের গোলপোস্টের দিকে দৌড়াতে হয়। এতে বল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া, অনেক দল বড় দলের বিপক্ষে ‘লো ব্লক’ বা গভীর রক্ষণভাগ নিয়ে খেলে। গোলপোস্টের খুব কাছে জটলা পাকিয়ে রক্ষণ সামলানোর সময় সামান্য ভুল বা অসতর্কতায় বল নিজেদের জালে ঢুকে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, খেলার গতি বৃদ্ধি এবং ডিফেন্ডারদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারের আসরটি আত্মঘাতী গোলের জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ।
আকাশজমিন / আরআর