ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রাষ্ট্রের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফাঁস


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:০৭ পিএম

বিশেষ প্রতিবেদন, আব্দুল কাইয়ুম খান:

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জেঁকে বসা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ বাণিজ্যের এক অন্ধকার চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের নানাবিধ লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ কোনো স্বাধীন আদালত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা দ্বারা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে আইনিভাবে অপরাধী বা দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। নিচে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রাষ্ট্রের ১১ থেকে ২০ নম্বর ক্রমিকে থাকা প্রধান প্রধান সেবা খাতের নানাবিধ চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট অনিয়মের চালচিত্র ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো।

প্রথমেই আসে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের কাস্টমস ও কর বিভাগ। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগের আঙুল মূলত কাস্টমসে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। অনেক অসাধু আমদানিকারক ও কর্মকর্তার যোগসাজশে আমদানি করা বিভিন্ন মূল্যবান পণ্যের প্রকৃত আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনেক কম দেখিয়ে এবং ভুল এইচএস কোড ব্যবহার করে সুকৌশলে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্দরগুলোতে কন্টেইনার দ্রুত খালাস করার প্রক্রিয়াতেও অবৈধ বিপুল অর্থ বা ঘুষ লেনদেনের জোরালো অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ করদাতাদের আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নতুন টিআইএন নম্বর খোলা, নিয়মিত বার্ষিক রিটার্ন জমা দেওয়া কিংবা ট্যাক্স সার্টিফিকেট বা কর পরিশোধের সনদপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও ফাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। করদাতাদের মনে অডিট বা হিসাব নিরীক্ষা এবং বড় অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা করদাতাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করছেন বলে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে করদাতার প্রকৃত আয় যথাযথভাবে হিসাব না করেই মনগড়াভাবে আয় বেশি দেখিয়ে বড় অঙ্কের ডিমান্ড নোটিশ বা অতিরিক্ত করের দাবি নামা জারি করা হয়। এছাড়া লাভজনক বা পছন্দের কাস্টমস হাউস এবং বড় বড় কর অঞ্চলে নিজেদের বদলি ও পদায়ন নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ বদলি বাণিজ্যেরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। আর এই কারণেই টিআইবির সেবা খাতে দুর্নীতি সংক্রান্ত জাতীয় জরিপগুলোতে এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির শীর্ষ তালিকায় নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে।

তালিকার দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতের সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রকাশ্য অনিয়ম হলো টিকিট কালোবাজারি। বিশেষ করে পবিত্র ঈদ এবং বিভিন্ন উৎসবের ছুটির মৌসুমে সাধারণ মানুষ যখন টিকিটের জন্য হাহাকার করে, তখন এক শ্রেণীর অসাধু চক্র বিশেষ অনলাইন টিকিট বট বা সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক মিনিটে সব টিকিট কেটে নেয়। পরবর্তীতে সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য করে সেই টিকিট কয়েক গুণ বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়, যার পেছনে স্টেশনের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ। এর বাইরে রেলওয়ের বিভিন্ন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন—নতুন রেললাইন স্থাপন, বগি কেনা এবং সেতু নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা এবং বাস্তব কাজের চেয়ে অনেক বেশি ভুয়া বিল উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ের হাজার হাজার একর মূল্যবান সরকারি জমি অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কর্তৃক দখল হয়ে যাওয়া এবং নামমাত্র মূল্যে পছন্দের মানুষকে লিজ বা ইজারা দিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি করার ঘটনা নিত্যদিনের। তদুপরি গেটম্যান, খালাসি ও পয়েন্টসম্যানের মতো সাধারণ গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী ক্রমিকে রয়েছে দেশের আকাশপথের রাষ্ট্রীয় বাহক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে বড় বড় ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ কেনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত দাম দেখানো এবং কোটি কোটি টাকার গোপন কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। এর পাশাপাশি বিমানের ইঞ্জিন মেরামত এবং বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ক্ষেত্রেও খরচের বিল ব্যাপকভাবে অতিরঞ্জিত বা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিমানের টিকিট এবং কার্গো বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা বিশেষ করে পবিত্র হজের ফ্লাইট এবং আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট সাধারণ ট্রাভেল এজেন্টদের কাছে না দিয়ে কালোবাজারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। কার্গো বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত চার্জ বা টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আর এই ধরণের চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে।

চতুর্দশ অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি। এই চত্বরে সরকারি বিভিন্ন বড় বড় বিজ্ঞাপন প্রচার এবং তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি ও নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে বাজেট কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত মূল বাজেটের একটি বড় অংশই নানা ফন্দি ফিকিরে আত্মসাৎ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এছাড়া স্টুডিওর জন্য আধুনিক ক্যামেরা, লাইটিং ও এডিটিংয়ের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল কারিগরি সরঞ্জামাদি উচ্চমূল্য দেখিয়ে বাজার থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য কেনা হয়। বিটিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণে চুক্তিভিত্তিক শিল্পী, উপস্থাপক ও দক্ষ কলাকুশলী নিয়োগের ক্ষেত্রেও যোগ্যতার চেয়ে স্বজনপ্রীতি এবং তদবিরকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে এক শ্রেণীর বঞ্চিত শিল্পীদের তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

তালিকার ১৫ ও ১৬ নম্বর অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই দুটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিযোগের খাত হলো দেশের সূর্য সন্তানদের ভাতা জালিয়াতি। অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন সায়াহ্নে এসেও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, অথচ বহু মৃত ব্যক্তি কিংবা সম্পূর্ণ অমুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মানুষের নামে জালিয়াতি করে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। ট্রাস্টের মালিকানাধীন বিভিন্ন মূল্যবান জমি, মার্কেট এবং বাণিজ্যিক ভবন লিজ বা বিক্রির ক্ষেত্রেও চরম অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ফান্ডের বা তহবিলের সাধারণ টাকা বিধি লঙ্ঘন করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করে রাষ্ট্রীয় টাকা অপচয় করার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ও জাল সামরিক-বেসামরিক সনদ তৈরি করে গেটজেটভুক্ত করার মাধ্যমে ‘গেজেট বাণিজ্য’ চালানো। রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে প্রকৃত অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে সরকারের বারবার তালিকা সংশোধন ও যাচাই-বাছাইয়ের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার ফলে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবার চরম সামাজিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে ১৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (বিআরইবি) কার্যক্রমে। দেশের প্রতিটি জেলায় এর শাখা থাকলেও বিশেষ করে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভেতরে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের চিত্র ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে সরাসরি উত্থাপিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) যুবরাজ চন্দ্র পাল নিজেই ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিশাল মালামাল ক্রয় সংক্রান্ত এক বড় দুর্নীতি মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। এই সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যুবরাজ চন্দ্র পালের আমলে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এডভোকেট আঞ্জুমারা বেগম। অভিযোগ রয়েছে যে, এই আইনজীবী সাবেক স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একজন প্রভাবশালী কাউন্সিলর ছিলেন। সারা দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগকৃত সব জায়গার আইনি কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করা হলেও, এক রহস্যময় ও অদৃশ্য কারণে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই বিতর্কিত প্যানেল আইনজীবীকে এখনও বরখাস্ত বা পরিবর্তন করা হয়নি।

এই এডভোকেট আঞ্জুমারা বেগমের আইনি মতামতের ওপর ভিত্তি করেই গাজীপুর জেলায় এক চরম বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের গাজীপুর জেলার সাবেক সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনি নামের এক নেতার পক্ষে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কাজ করেছেন তিনি। এই রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনি কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র, জমির মূল মালিকানার দলিল, নামজারি জমাভাগ বা হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন করের (খাজনা) রশিদ ছাড়াই, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অপরের জায়গা দখল করে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেন। আর এই প্যানেল আইনজীবী আঞ্জুমারা বেগম মোটা অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার এবং নতুন বিদ্যুৎ মিটার দেওয়ার জন্য বেআইনিভাবে সুপারিশ করেন।

তাঁর এই বিতর্কিত আইনি মতামতের ওপর ভিত্তি করেই জমির প্রকৃত মালিকের জায়গায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং জোরপূর্বক সেই ট্রান্সফরমার ও মিটার স্থাপন করা হয়, যা বিআরইবির নিজস্ব বিদ্যুৎ সংযোগ নীতিমালা ২০২০-এর সুনির্দিষ্ট ধারাগুলোর চরম লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতিতে গাজীপুরের ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়াউল আজিম স্যারের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, যেন এই অবৈধ ও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী প্যানেল আইনজীবী এডভোকেট আঞ্জুমারা বেগমকে অবিলম্বে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও বাতিল করা হয়। এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাধারণ কার্যক্রমেও নতুন সংযোগে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মিটার রিডিংয়ে কারচুপি এবং লাইনম্যান নিয়োগে ঘুষের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষে ১৯ ও ২০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে যথাক্রমে সরকারের সাধারণ কর বিভাগ এবং সমবায় অধিদপ্তর। কর বিভাগের ক্ষেত্রে ফাইল আটকানো এবং কর অফিসের সামনে গড়ে ওঠা শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ করদাতাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান অনিয়ম হলো বিভিন্ন সমবায় সমিতির লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন প্রদানে বড় অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করা। এছাড়া বিভিন্ন ভুয়া বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে পরবর্তীতে রাতারাতি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো ভয়ানক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে, যার পেছনে অধিদপ্তরের ত্রুটিপূর্ণ অডিট বা নিরীক্ষা জালিয়াতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর