ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বিশ্বমঞ্চে মিশরের রূপকথা লিখছেন যমজ ভাই হোসাম ও ইব্রাহিম


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:২৫ পিএম

চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে পিরামিডের দেশ মিশরের অবিশ্বাস্য ও রূপকথার মতো সাফল্যের পেছনে ডাগআউটে কাজ করছে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক শক্তি। ডাগআউটের টাচলাইনের একদম সামনে দাঁড়িয়ে কখনো হাত নেড়ে খেলোয়াড়দের ট্যাকটিক্যাল নির্দেশনা দিচ্ছেন, কখনো রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝাড়ছেন, আবার দলের প্রতিটি গোলে মুষ্টিবদ্ধ হাতে বুনো উল্লাসে মেতে উঠছেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ঠিক তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে বেঞ্চের ফুটবলারদের তাতানো, বদলি খেলোয়াড়দের রণকৌশল বুঝিয়ে দেওয়া এবং মাঠের ফুটবলারদের কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি নিখুঁতভাবে করছেন সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান। বিশ্ব ফুটবলে এমন দৃশ্য বিরল, কারণ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই প্রধান ও সহকারী কোচের সম্পর্কটা কেবল পেশাদার সহকর্মীর নয়; তাঁরা দুজনে আপন যমজ ভাই। খেলোয়াড়ি জীবনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে এখন ডাগআউটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত আসরে সুযোগ না পাওয়া মিশরকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নিয়ে এসেছেন এই দুই মাস্টারমাইন্ড। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মহালড়াইতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে দুই ভাইয়ের এই লড়াকু মিশর।

১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট মিশরের কায়রোর হেলওয়ান অঞ্চলের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া হোসাম ও ইব্রাহিমের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক অনটনের মাঝে। তবে ফুটবলই বদলে দেয় তাঁদের নিয়তি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দুই ভাই একসাথে যোগ দেন দেশটির ঐতিহ্যবাহী আল আহলি স্পোর্টিং ক্লাব একাডেমিতে। খেলোয়াড়ি জীবনেও তাঁরা ছিলেন একজন আরেকজনের পরম ছায়া। হোসাম খেলতেন স্ট্রাইকার হিসেবে আর ইব্রাহিম সামলাতেন রক্ষণভাগ। ক্লাব ফুটবলে আল আহলি ছাড়াও গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসির হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন এই যমজ জুটি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপেও পাশাপাশি খেলেছিলেন তাঁরা। দেশের হয়ে ৬৮টি গোল করা হোসাম হাসান এখনো মিশরের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বুট জোড়া তুলে রাখার পরও এই দুই ভাই আলাদা হননি; মিশরের বিভিন্ন নামী ক্লাব ও জর্ডান জাতীয় দলের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব।

দুই ভাইয়ের জাদুকরি ছোঁয়ায় মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে আমূল বদলে গেছে মিশরের ফুটবল সংস্কৃতি। বাছাই পর্বের কঠিন বাধা অনায়াসে পার করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পর এবার গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে সালাহ-মারমুশরা। বিশ্ব ফুটবলে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার ভুরিভুরি নজির থাকলেও, বুট জোড়া তুলে রাখার পর জাতীয় দলের ডাগআউটে কোচিং স্টাফ হিসেবে এমন রূপকথা লেখার ঘটনা ইতিহাসে সত্যিই বিরল। আগামী মঙ্গলবার ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে হোসাম ও ইব্রাহিম হাসান আরও একটি মহাকাব্যিক চমক উপহার দিতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর