বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান পরাশক্তি নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের বিপক্ষে সেলেসাওদের মাঠে নামার আগে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে পরিসংখ্যান। তবে অতীত ইতিহাস নরওয়ের পক্ষে কথা বললেও, ডেটা বিশ্লেষণকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘অপ্টা সুপারকম্পিউটার’ কিন্তু বাজির ঘোড়া বানাচ্ছে ব্রাজিলকেই।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে কাইশু সানোর গোলে জাপানিরা এগিয়ে যাওয়ার পর অভিজ্ঞ কাসেমিরো ব্রাজিলের পক্ষে সমতা ফেরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এই গোলের জোগানদাতা ব্রুনো গিমারায়েস আসরে নিজের চতুর্থ অ্যাসিস্ট করে বসেন। বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করা ব্রাজিলিয়ানদের তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল ফুটবল সম্রাট পেলে (১৯৭০ বিশ্বকাপে ৬টি অ্যাসিস্ট)।
ব্রাজিল টানা চার জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির মূল উদ্বেগের জায়গা দলটির আক্রমণভাগ। চলতি আসরে ৪ ম্যাচে রেকর্ড ৬০টি শট নিলেও ফরোয়ার্ডরা কাঙ্ক্ষিত গোল বের করতে পারছেন না। ১৯৯৮ সালের পর এক আসরে শট থেকে গোল করার ক্ষেত্রে এটি সেলেসাওদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড। অবশ্য শেষ ষোলোর ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে। বিশ্বকাপের নকআউটের এই পর্বে খেলা শেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একবার হেরেছে—১৯৯০ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে।
অন্যদিকে নরওয়েও রয়েছে চনমনে ফর্মে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের জয়সূচক গোলের ওপর ভর করে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচ জেতার স্বাদ পায় নরওয়ে। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নকআউটে উঠলেও দুবারই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ১৩ ম্যাচে ২৫ গোল করা হালান্ডই এখন ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল পেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অষ্টম ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি।
মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য রীতিমতো ভয়ের কারণ। নরওয়ের বিপক্ষে এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়ে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি সেলেসাওরা; যার মধ্যে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে। এছাড়া ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জিততে না পারার জুজুও তাড়া করছে ব্রাজিলকে।
ইতিহাসের পাতায় নরওয়ে এগিয়ে থাকলেও ‘অপ্টা সুপারকম্পিউটার’-এর গাণিতিক হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। বিপরীতে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২২.৪ শতাংশ। আর নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সার্বিক সম্ভাবনা ৬৫.৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের পক্ষে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে ৩৪.৫ শতাংশ। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ আটে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর।