দেশের পাঁচ জেলায় আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আগামী এক সপ্তাহ দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার মুখে এই সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান এক বিশেষ বার্তায় এই আশঙ্কার কথা জানান।
বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু কিছু স্থানে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত একটি মৌসুমি নিম্নচাপকে দায়ী করা হচ্ছে, যা দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি কিছুটা কমলেও, ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তা আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।