মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামটি তাদের ফুটবলের জন্য কেবল একটি পয়মন্ত ভেন্যুই নয়, বরং প্রতিপক্ষের জন্য এক অভেদ্য দুর্গ। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ৮৯টি ম্যাচ খেলে মেক্সিকানরা হেরেছে মাত্র ২টি ম্যাচে; যার সর্বশেষটি ছিল দীর্ঘ এক যুগ আগে, ২০১৩ সালে। এমনকি ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এই মাঠে মেক্সিকো আজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অজেয়। এখানে খেলা ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচের ৮টিতেই জয় ও ২টিতে ড্র করেছে তারা। এমন এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান সামনে রেখে আগামীকাল সকালে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। আর এই কঠিন দুর্গ জয় করতে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামরা নাকি এক অভিনব ও চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক কৌশল বেছে নিচ্ছেন! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য সান'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেক্সিকোর উচ্চতা ও অক্সিজেন সংকট মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা 'ভায়াগ্রা' ট্যাবলেট খেয়ে মাঠে নামতে পারেন।
ইংলিশ দলের প্রধান কোচ টমাস টুখেল সবুজ সংকেত দেওয়ার পরেই মূলত দলের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল খেলোয়াড়দের এই ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খাওয়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দ্য সানের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আসলে এর পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ভৌগোলিক কারণ। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩৫০ ফুট (২২৪০ মিটার) উঁচুতে অবস্থিত। এত বিপুল উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং অক্সিজেনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশ কম থাকে। ফলে সমুদ্রতীরবর্তী বা সমতল অঞ্চলের খেলোয়াড়রা এমন উচ্চতায় খেলতে নামলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাদের স্বাভাবিক স্ট্যামিনা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পেশিতে টান পড়ে। যা সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্সে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ইংল্যান্ডের মেডিকেল টিম বেশ কয়েকটি বিকল্প উপায় নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছে, যার মধ্যে অন্যতম কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে 'ভায়াগ্রা'। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ভায়াগ্রা মূলত পুরুষদের লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও এর মূল কাজ হলো শরীরের রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত (Vasodilation) করা। এর ফলে ফুসফুসসহ সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের ধারণা, এর মাধ্যমে কম অক্সিজেনের প্রতিকূল পরিবেশেও খেলোয়াড়দের ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন ধরে রাখতে পারবে এবং তারা অতিরিক্ত ক্লান্তি ছাড়াই পুরো ৯০ মিনিট লড়ে যেতে পারবেন।
ভায়াগ্রা ব্যবহারে আইনি বাধা নেই: চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই কৌশলটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পুরোপুরি বৈধ। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা) ভায়াগ্রাকে তাদের নিষিদ্ধ বা ডোপিং ওষুধের তালিকায় রাখেনি। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ম্যাচ চলাকালীন বা এর আগে খেলোয়াড়দের এটি গ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই। রক্তনালি ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর এর প্রভাবের কারণে 'ওয়াডা' বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করেছে। তবে এটি সাধারণ সমতলে খেলোয়াড়দের কৃত্রিম পারফরম্যান্স বা শক্তি বাড়ায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। তবে অধিক উচ্চতায়, যেখানে তীব্র অক্সিজেন সংকট থাকে, সেখানে শরীরকে দ্রুত মানিয়ে নিতে এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা সচল রাখতে ভায়াগ্রা দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চিকিৎসকেরা একমত হয়েছেন।