ক্রীড়া
ডেস্ক
প্রতিকূল আবহাওয়ার চরম দাপট আর বৈরী পরিস্থিতি মাড়িয়ে অবশেষে শেষ আট নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। খেলা শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের দখল নিয়ে নেয় সহ-আয়োজক মেক্সিকো। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে একের পর এক ধারালো আক্রমণে ইংলিশ রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে মেক্সিকান ফরোয়ার্ডরা। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণের সেই ঝড় সামলে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে উল্টো গোল আদায় করে নেয় থ্রি লায়নসরা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত মেক্সিকোর ওপর ২-১ ব্যবধানের চমৎকার এক লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় ইংলিশরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল আরও বেশি নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ঠাসা। রক্ষণভাগ জমাট রেখে আক্রমণ শানানো ইংল্যান্ড দল মেক্সিকোর জালে আরও একটি বল জড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এর পরপরই বড় ধাক্কা খায় মেক্সিকানদের স্তব্ধ করে দেওয়া ইংলিশ শিবির। মাঠের মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউল বা লাল কার্ডের খড়্গে পড়ে তারা পরিণত হয় ১০ জনের দলে। ম্যাচের বেশ খানিকটা সময় বাকি থাকায় ১০ জনের দলের বিপক্ষে স্বাগতিক মেক্সিকোর সামনে সমতায় ফেরার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। ইংলিশরা একজন কম নিয়ে খেলার সেই বাড়তি সুবিধা পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মেক্সিকানরা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের জালে আরেকটি গোল শোধও করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের তুমুল উত্তেজনা আর ইংলিশ ডিফেন্ডারদের অনবদ্য প্রতিরোধের দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নিশ্চিত হয় মেক্সিকোর।
এই চরম পরাজয়ের মধ্য দিয়ে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর অধ্যায় এখানেই সমাপ্ত হলো। মাঠের লড়াইয়ের আগে থেকেই এই ম্যাচটি ঘিরে মাঠের বাইরেও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মেক্সিকোর মাটিতে পা রাখার পর থেকেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছিলেন ইংলিশ ফুটবলাররা। স্থানীয় উগ্র সমর্থকরা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পথিমধ্যে ইংলিশ দলকে অনবরত দুয়ো ধ্বনি দিয়ে এক প্রকার বৈরী অভ্যর্থনা জানায়। এমনকি ইংলিশ ফুটবলারদের রাতের ঘুম হারাম করতে টিম হোটেলের বাইরে গভীর রাতে কান ফাটানো হট্টগোল ও বাজি ফোটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল মেক্সিকান ভক্তদের। তবে পূর্ববর্তী ইকুয়েডর ম্যাচের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বেশ তৎপর ছিল মেক্সিকোর আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের কঠোর নজরদারি এবং নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে স্বাগতিক ভক্তরা হোটেলের সামনে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেনি। মাঠের বাইরের সেই সব প্রতিকূলতা আর মাঠের ভেতরের ১০ জনের লড়াই—সব বাধা জয় করে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
আকাশজমিন/ আরআর