স্পোর্টস ডেস্ক: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে শেষ ষোলোতে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারতেন না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিনটি ফোনকলে চিত্র বদলে গেছে। ফিফার বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার রাতে সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন বালোগান। তাঁর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ফিফাকে ট্রাম্প ধন্যবাদও দিয়েছেন।
বসনিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ম্যাচটি হয় স্থানীয় সময় বুধবার। কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ফিফায় জোর তদবির চালিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার থেকে তিনি তিনবার ফিফায় কল করেন। এসব কলের একটিই উদ্দেশ্য ছিল, বালোগানের লাল কার্ড সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। চলতি টুর্নামেন্টের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হয়ে আছেন বালোগান। তিন ম্যাচে ৩টি গোল করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামলে পুরো দল জয়ের অনুপ্রেরণা পাবে। তদবির ও আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে গার্ডিয়ান, তবে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
রোববার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধারায়—ম্যাচ পাতানোর মতো অপরাধ ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করা যায়। ফিফা বলেছে, বালোগান আগামী এক বছর পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকবেন। এর অর্থ হলো—টেকনিক্যালি রেকর্ডবুকে লাল কার্ডটি বহাল থাকছে। এই এক বছরের মধ্যে বালোগান যদি আরেকবার নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁকে এক ম্যাচের সেই নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন পর্তুগালের ত্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সে অনুযায়ী তিনি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারতেন না। তাঁর ক্ষেত্রেও ফিফা ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে খেলার অনুমতি দেয়। বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ) বলছে, এই সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত। বিষয়টি লাল কার্ডের শাস্তিসংক্রান্ত ফিফার নিজস্ব সংবিধির পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব আইনি পথ খতিয়ে দেখছে আরবিএফএ। অপরদিকে বেলজিয়ামের ম্যানেজার রুডি গার্সিয়া ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ‘এপ্রিল ফুল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে রাষ্ট্রপ্রধানের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকেরা তাদের প্রধান স্ট্রাইকারকে ফিরে পেয়ে উল্লাস করছেন, অন্যদিকে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের বড় একটা অংশ ফিফার এই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফুটবল মাঠের সিদ্ধান্ত যেখানে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা, সেখানে রাজনৈতিক তদবির কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—এই ঘটনাটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইল। তবে মাঠের লড়াইয়ে ট্রাম্পের এই তদবির শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা সুবিধা দেবে, তা বেলজিয়াম ম্যাচের পরেই পরিষ্কার হবে।