স্পোর্টস ডেস্ক:
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আরও একবার অধরা থেকে যাওয়ার বিষাদমাখা রাতে দেশবাসী ও কোটি সেলেসাও সমর্থকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক মার্কিনিওস। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর থেকে চাপ কমানোর আকুতি জানিয়েছেন। কান্নাভেজা কণ্ঠে ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘আমি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের কাছে এবং যারা মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন, সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। একজন অধিনায়ক এবং দলের অন্যতম সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের এই ব্যর্থতার দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্মের ওপর চাপ না পড়ে এবং তারা শান্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়। আমি মনে করি দোষটা আমারই, তাই না?’
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়ে মার্কিনিওস আরও যোগ করেন, ‘এই ভুল থেকে আমাদের শিখতে হবে। আগামী প্রজন্মের যারা দলে থাকবে, তাদের জন্য আমি দেশের মানুষের কাছে এখন থেকেই সমর্থনের অনুরোধ করছি। সামনে চার বছর সময় আছে, তারা যেন কঠোর পরিশ্রম করতে পারে এবং আগামী বিশ্বকাপে বড় কিছু অর্জন করতে পারে।’ ম্যাচের শুরুতেই ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গিমারেসের শট আটকে যায় নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষকের হাতে। এরপর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিকও। বিপরীতে মেটলাইফের মাঠে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলেই ম্যাচ জিতে নেয় ভাইকিংরা। সুযোগ নষ্টের এই খেসারত নিয়ে মার্কিনিওস বলেন, ‘নরওয়ে আজ তাদের সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে, আমরা আমাদের পাওয়া সুযোগগুলো হেলায় হারিয়েছি। আমরা পেনাল্টি পেয়েছিলাম, আরও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম। আসলে বিশ্বকাপ এমন একটা জায়গা যেখানে যে দল কম ভুল করবে, তারাই পরের পর্বে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।’
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মাঠের সামান্যতম ভুল যে কতটা বড় মাশুল ডেকে আনতে পারে, ব্রাজিলের বিদায় তারই এক নির্মম উদাহরণ। গ্যালারিতে হাজির হওয়া হাজারো ভক্তের চোখের জল আর মাঠের খেলোয়াড়দের হতাশা মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তৈরি হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। অধিনায়ক হিসেবে মার্কিনিওস যেভাবে তরুণ ফুটবলারদের আড়াল করে নিজে সব দায় মাথা পেতে নিয়েছেন, তা ফুটবল মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এন্দ্রিক বা ব্রুনোর মতো তরুণদের আগলে রেখে তিনি এক মহান নেতার পরিচয় দিয়েছেন। হেক্সার স্বপ্নভঙ্গের বিষাদ কাটিয়ে এই তরুণরাই আগামী চার বছর পর নতুন এক ব্রাজিলকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে, এমনটাই বিশ্বাস করেন সেলেসাও অধিনায়ক।
আকাশজমিন / আরআর