ক্রীড়া
প্রতিবেদক
নিজেদের চেনা আঙিনায়, গ্যালারিভর্তি হাজারো সমর্থকের সামনে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে এসে সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। সিয়াটলের সবুজ গালিচায় ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে শক্তির লড়াইয়ে টিকতে না পেরে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের। এই হতাশাজনক পরাজয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের মিশন শেষ হলো আমেরিকার।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা বেশ আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়ে আসছিল। গ্রুপ পর্বের সেই ছন্দ দেখে অনেকেই দলটিকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তবে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে সেই চেনা ধার সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে ইউএসএমএনটি। মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকেই চালকের আসনে ছিল বেলজিয়াম। তাদের গোছানো ফুটবল আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে মার্কিন রক্ষণভাগ। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই মূলত খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বেলজিয়াম, যার ফলে মার্কিন শিবিরের স্বপ্ন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত দুটি গোল করে দলকে চালকের আসনে বসান তারকা ফুটবলার চার্লস ডি কেটেলারি। দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মালিক টিলম্যানের একটি ফ্রি-কিক থেকে ডিফ্লেক্টেড গোলে ব্যবধান কমিয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল স্বাগতিক সমর্থকরা। গ্যালারিতে তখন সমতায় ফেরার উল্লাস।
তবে মার্কিনদের সেই স্বস্তির সময়টুকু দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি নিজেদেরই এক মারাত্মক ভুল। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস বল পায়ে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর অযথা সময় নষ্ট করার একটি বড় ভুল করে বসেন। বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ ফুটবলার হান্স ভানাকেন সেই সুযোগটি লুফে নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি। ফ্রিসের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলের পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
খেলার একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ যোগ করা সময়ে মার্কিনদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। ম্যাচের ৯০+৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একক দক্ষতায় ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর দারুণ এক কার্লিং শটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসকে পরাস্ত করে বল দূরের পোস্টে জড়ান। চমৎকার এই গোলের পর সিয়াটলের স্তব্ধ গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দুই কান চেপে ধরে নিজের চেনা ভঙ্গিমায় উদ্যাপন করেন লুকাকু।
এই লজ্জাজনক হারের ফলে যৌথ স্বাগতিক দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া তিন দেশের কেউই আর টুর্নামেন্টের শেষ আটে পৌঁছাতে পারল না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা বেলজিয়াম এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হবে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এই দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির ম্যাচটি যে জমজমাট হবে, তা বলাই বাহুল্য।
আকাশজমিন / আরআর