ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মাঠে ব্রাজিল বধ, গ্যালারিতে আলো ছড়াচ্ছেন হলান্ডের জীবনসঙ্গী ইসাবেল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৫৮ এএম

চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। বিশ্বমঞ্চের এই আসরে ইতিমধ্যেই তিনি প্রতিপক্ষের জালে একাই ৭টি চোখ ধাঁধানো গোল জড়িয়েছেন। এর মধ্যে সবশেষ শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের গোলপোস্টে দুটি দুর্দান্ত গোল করে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে হলান্ডকে নিয়ে কৌতুহল ও আগ্রহ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। মাঠের ভেতরে নিজের বিধ্বংসী রূপের কারণে সারাক্ষণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, মাঠের বাইরের ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই অত্যন্ত সংযত ও অন্তর্মুখী ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। তবে ভক্তদের মনে উঁকি দেওয়া বড় প্রশ্ন হচ্ছে, হলান্ড কি বিয়ে করেছেন? তার জীবনসঙ্গীই বা কে? ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের এই প্রধান ফরোয়ার্ড বহু বছর ধরে এক নিবিড় ও গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন তার স্বদেশি রূপসী ইসাবেল হগসেং ইয়োহানসেনের সঙ্গে। কৈশোরের চেনা বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া তাদের এই নিখাদ ভালোবাসার সম্পর্কটি এখন এক ফুটফুটে সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট এক সুখী পরিবারে পূর্ণতা লাভ করেছে।

হলান্ডের মতোই ইসাবেলের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা নরওয়ের ব্রিনে নামের একটি শান্ত ও ছোট্ট শহরে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি এক অন্যরকম ভালো লাগা ও গভীর আগ্রহ ছিল তার। ঠিক হলান্ডের মতোই কিশোরী বয়সে ইসাবেলও স্থানীয় ফুটবল ক্লাব ব্রাইন এফকের হয়ে মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত ফুটবল খেলেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পেশাদার ফুটবলকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে না নিলেও, ফুটবল এখনো ইসাবেলের যাপন ও জীবনের একটি অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। মাঠের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দারুণ জনপ্রিয়তা ও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিজের ঘুরে বেড়ানো, দৈনন্দিন জীবনযাপনের নানা খণ্ডচিত্র এবং রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো তিনি নিয়মিত ছবির মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

হলান্ড যখনই সবুজ মাঠে নরওয়ে বা ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করতে ব্যস্ত থাকেন, ইসাবেল তখন গ্যালারিতে বসে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে চিৎকার করেন। ২০২৬ সালের এই ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালেও গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে নরওয়েকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে নতুন করে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন এই সুন্দরী। বিশেষ করে টেক্সাসের মাঠে সেনেগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে হলান্ডের জার্সির নকশার সঙ্গে মিল রেখে কাউবয় সংস্কৃতির এক অনন্য পোশাকে গ্যালারিতে হাজির হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হন তিনি। পরবর্তীতে ইসাবেলের সেই দারুণ ছবির পোস্টে হলান্ড নিজে বেশ মজা করে একটি মিষ্টি মন্তব্যও করেছিলেন।

হলান্ড বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকা হয়ে ওঠার পর তাদের এই গোপন প্রেমের সম্পর্কটি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসে, যদিও তাদের জানাশোনা এবং পরিচয় বহু বছরের পুরোনো। ব্রিনে শহরে একই সঙ্গে বড় হওয়া এই জুটি কিশোর বয়সে একই ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেললেও তখন তাদের মধ্যে প্রেমের সূচনা হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়ান, যখন হলান্ড ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের গোলবন্যা দিয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব তৈরি করতে শুরু করেছেন। নরওয়ের জনপ্রিয় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে হলান্ড তাদের প্রেমের শুরুর রোমান্টিক গল্পটি শেয়ার করে জানান, তাদের সম্পর্কের প্রথম পদক্ষেপটি মূলত ইসাবেলই নিয়েছিলেন। হলান্ড হাসতে হাসতে বলেন, “ও-ই আমাকে প্রথম টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিল। আমরা দুজন একই ক্লাব ব্রাইনের হয়ে খেলতাম, তবে ও-ই প্রথম আমাকে লক্ষ্য করেছিল এবং এগিয়ে এসেছিল।”

বিশ্বজোড়া বিপুল খ্যাতি ও অর্থ থাকলেও নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সবসময় লাইমলাইট বা প্রচারের আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন এই জুটি। ফুটবলীয় কোনো বড় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ কোনো উৎসব ছাড়া তাদের একসঙ্গে খুব একটা দেখা যায় না। সম্প্রতি সন্তানের বাবা হওয়ার পর নিজের জীবনে এক বিশাল ও ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা গণমাধ্যমে অকপটে স্বীকার করেছেন হলান্ড। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নরওয়েজিয়ান কিংবদন্তি বলেন, “বাবা হওয়ার পর থেকে আমি মাঠের বাইরের সাধারণ জীবনটাকে আরও অনেক বেশি উপভোগ করতে শিখেছি। এখন সন্তান হওয়ার পর যখনই আমি খেলা শেষে বাড়িতে ফিরি, তখন ফুটবল থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখতে পারি। ঘরের ভেতরে আমি আর ফুটবল বা গোল নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবি না, তখন কেবলই একজন সুখী বাবা।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর