ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি, বিদায়ের পর হুঙ্কার রোনালদোর


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৫৯ এএম

টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেও প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে—ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহানায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এই বিদায়লগ্নটি চরম হতাশার। তবে বিশ্বমঞ্চ থেকে এমন বেদনাবিধুর বিদায়ের পরেও এক অদ্ভুত মানসিক আত্মতৃপ্তি কাজ করছে এই পর্তুগিজ মহাতারকার মনে। তার স্পষ্ট দাবি, নিজের দেশের জার্সিতে তিনি সামর্থ্যের শেষ বিন্দু পর্যন্ত উজাড় করে দিয়েছেন। আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এই শেষ প্রান্তে এসে নিজের বিবেকের কাছে তিনি সম্পূর্ণ নির্ভার ও হালকা বোধ করছেন। রয়টার্সের ক্যামেরায় ধরা পড়া কান্নাভেজা বিদায়ের পর নিজের জাতীয় দলের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভূতপূর্ব অর্জনের কথা সমালোচকদের কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সিআর সেভেন। তিনি সগর্বে দাবি করেন, তার দলে আসার আগে পর্তুগাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো বড় শিরোপাই জেতেনি, অথচ তার জাদুকরী নেতৃত্বেই পর্তুগিজরা ঘরে তুলেছে তিনটি ঐতিহাসিক ট্রফি।

স্পেনের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর রোনালদো সংবাদমাধ্যমের সামনে আরও একবার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, এটিই ছিল তার ফুটবল জীবনের শেষ বিশ্বকাপ। তবে ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটি অধরা থেকে গেলেও ২০১৬ সালের মহাকাব্যিক ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাকেই নিজের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান মর্যাদা দেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। রোনালদো বলেন, “আমি ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরো জিতিয়েছি। আমার কাছে সেই ঐতিহাসিক ট্রফির গুরুত্ব ও মর্যাদা একটি বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সেই মহিমান্বিত অর্জন চিরকাল আমার হৃদয়ে ও ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে। আগামীকাল নতুন একটি দিন শুরু হবে এবং আমাদের সবাইকে জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ইউরোর পাশাপাশি ২০১৯ এবং অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালেও উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও পর্তুগালকে জিতিয়েছেন রোনালদো। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাওয়া এসব অবিস্মরণীয় সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমি দেশের জন্য আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং পর্তুগালের হয়ে তিনটি বড় শিরোপা জিতেছি। আমার অভিষেকের আগে এই দলটির শোকেসে কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাই ছিল না। তাই বর্তমান অবস্থান নিয়ে আমার অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত হওয়ার কথা।”

ম্যাচ শেষে নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রোনালদো আরও জানান, এখন তার সামনে থমকে দাঁড়ানোর, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার এবং প্রিয় পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সময় কাটানোর মোক্ষম সুযোগ থাকবে। কারণ জীবন তার নিজস্ব নিয়মেই চলতে থাকবে। ফুটবল মাঠে কখনো জয় আসবে আবার কখনো পরাজয় মেনে নিতে হবে, এটাই চিরন্তন নিয়ম। জাতীয় দলের হয়ে নিজের গৌরবময় অর্জন নিয়ে অহংকার প্রকাশ করলেও বিদায়ের গভীর কষ্ট পুরোপুরি আড়াল করতে পারেননি সিআর সেভেন। তিনি স্বীকার করেন, এভাবে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হওয়ায় এই মুহূর্তে অবশ্যই খুব খারাপ লাগছে। তবে পুরো পর্তুগাল দল এবার বেশ ভালো ফুটবল খেলেছে এবং তাদের পারফরম্যান্স মোটেও খারাপ ছিল না। অবশ্য আরও একটু ভালো করার সুযোগ ছিল। পরিশেষে প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রশংসা করে রোনালদো বলেন, স্পেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস স্প্যানিশরাই এবার ফাইনালে খেলবে কিংবা শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর