ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বিজিবি সদস্যের বাড়িতে ৫ ভরি স্বর্ণ চুরি: ধরা পড়া আসামিকে বাঁচাতে রাজনৈতিক তদবির


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:২৩ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌর এলাকায় এক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যের বসতবাড়িতে চুরির মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে জোর রাজনৈতিক তদবির শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে মামলা তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩০ জুন সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজার এলাকা থেকে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাহামীম সিকদারকে সন্দেহভাজন চোর হিসেবে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

থানাপুলিশ আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত মামলার ডায়েরি এবং চুরির ঘটনার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে শাহামীম সিকদারের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে শাহামীম সিকদার শ্যামনগর থানায় পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। এদিকে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে রিমান্ডে থাকা শাহামীম সিকদারকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে তদবির চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিজিবি সদস্যের পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মী সন্দেহভাজন আসামির পক্ষে পুলিশের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, মামলাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অকাট্য আলামত হিসেবে চুরির সময়ের সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে আসামির গতিবিধি স্পষ্ট। তাই তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের ঊর্ধ্বে থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চুরির মালামাল উদ্ধার, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে সন্দেহভাজন আসামিকে থানায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। তদন্তে ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী বিজিবি সদস্য জি.এম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৩১ মে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কালিগঞ্জে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মূল ফটক ও ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা শয়নকক্ষের আলমারি ভেঙে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। যার মধ্যে ছিল একটি নেকলেস, দুটি রুলি, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া রিং দুল, একটি স্বর্ণের আংটি, একটি স্বর্ণের চেইন এবং পাঁচটি নাকফুল। এ ছাড়া আলমারিতে রাখা দুটি প্লাস্টিকের পাত্র থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ড্রয়ার থেকে ২১ হাজার ৩০০ টাকা নগদ অর্থ এবং জনতা ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ডসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় গত ৩ জুন মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর