নান্দনিক ও আকর্ষণীয় ডিজাইনে তৈরি ‘ট্রায়োন্ডা ফাইনাল’ বলটিতে সোনালি, সাদা ও কালো রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদাকর প্রতীক বিশ্বকাপ ট্রফির অনুপ্রেরণায় তৈরি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে টুর্নামেন্টের জন্য উন্মোচিত মূল ‘ট্রায়োন্ডা’ বলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত কাঠামো সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখেই এই নতুন ডিজাইন সাজানো হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চের শেষ চার ম্যাচের অনন্য মর্যাদা ও গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলবে।
বিশেষ এই বলের ডিজাইনে ২০২৬ বিশ্বকাপের গৌরবময় ১৬টি আয়োজক শহরকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান এবং ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি এবং নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সিকে বলের ডিজাইনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বোস্টন, গুয়াদালাহারা, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, মন্টেরে, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, সিয়াটল, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের মতো বাকি আয়োজক শহরগুলোর উপস্থিতিও রয়েছে বলের বিশেষ গ্রাফিক উপাদানে।
নতুন এই বল নিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপের শেষ চারটি ম্যাচের জন্য ট্রায়োন্ডা ফাইনাল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই বিশ্বকাপে ট্রায়োন্ডা যতবার জালের দেখা পেয়েছে, ততবারই তা কোটি সমর্থকের বাঁধভাঙা আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি করেছে। এই বলটি মূলত কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলীয় ঐক্য ও গভীর আবেগের এক মূর্ত প্রতীক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘টুর্নামেন্টের শেষ চারটি ম্যাচে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের প্রতিটি স্পর্শ, নিখুঁত পাস, ড্রিবলিং, অসাধারণ সেভ এবং জাদুকরি গোলের সাথে সাথে ১৬টি আয়োজক শহরের অবিস্মরণীয় অবদানও বিশ্বকাপের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
নকশার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই বলটি অনন্য। ‘ট্রায়োন্ডা ফাইনাল’ বলে যুক্ত করা হয়েছে অ্যাডিডাসের সর্বশেষ ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। এর ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে বা মাঠের তাৎক্ষণিক বলের গতিবিধির নির্ভুল তথ্য চলে যাবে ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের কাছে। এর ফলে অফসাইড বা গোললাইনের মতো জটিল পরিস্থিতিগুলোতে মাঠের রেফারিরা দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সাথে উন্নত ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্যও এই বলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সরবরাহ করবে, যা আধুনিক ফুটবলে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।