সিবিএফের নীতিনির্ধারকদের মতে, সেলেসাওদের হটসিটে বসার পর দলটিকে নিজের দর্শন অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি আনচেলত্তি। দীর্ঘদিন ধরে চলা সিবিএফের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক টানাপোড়েন এবং ঘন ঘন কোচ পরিবর্তনের অস্থিরতার মাঝেও তিনি একটি লড়াকু দল গঠনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাই নকআউট পর্ব থেকে বিদায়ের পরও কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কোনো নাটকীয়তা তৈরি করতে নারাজ কর্তারা।
অবশ্য নরওয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচটিতে দ্বিতীয়োর্ধে কোচের কিছু ফুটবলার বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। সিবিএফের একটি অংশের মতে, ম্যাচের অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনগুলো মোটেও ফলপ্রসূ ছিল না। তবে এই খণ্ডকালীন সমালোচনাকে বড় করে দেখে এই হাইপ্রোফাইল ইতালিয়ানকে বরখাস্ত করার কোনো ইচ্ছা নেই সংস্থার। মূলত বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার আগেই আনচেলত্তি ও তার পুরো কোচিং প্যানেলের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছিল সিবিএফ। নতুন করে শূন্য থেকে কাজ শুরু করার চেয়ে বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হবে বলে মনে করেন ফুটবল কর্তারা।
প্রধান কোচের পদে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিল ফুটবল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে আমাদের বর্তমান পরিকল্পনা ও আনচেলত্তির ওপর আস্থা বহাল থাকবে। এখন ঠান্ডা মাথায় পুরো বিশ্বকাপের ভালো-মন্দ দিকগুলো মূল্যায়ন করার সময়।’ এই দলটির আরও বহুদূর যাওয়ার সামর্থ্য ছিল উল্লেখ করে কায়েতানো জানান, আগামী চার বছর একটি স্থিতিশীল ও শান্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেলে ২০৩০ বিশ্বকাপে দল আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে।
তবে মাঠের ফুটবলে এই ব্যর্থতার পাশাপাশি ব্রাজিলের ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনেও চরম অস্বস্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ এখনো গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উল্টো তিনি নিজেই এখন নানামুখী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে রয়েছেন। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতিতে সেলেসাও ফুটবলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের আলোচনাও বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে।