বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন হৃদয়বিদারক বিদায়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন হোসাম হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠের পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার চেয়ে সব বিভাগেই সেরা ফুটবল খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের অদৃশ্য প্রভাব আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ফুটবল নিয়ন্ত্রকরা হয়তো চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যেকোনো মূল্যে এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক এবং লিওনেল মেসি যেন বিশ্বকাপ থেকে বাদ না পড়েন।’
মিশরীয় শিবিরের মূল ক্ষোভ ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাতেক্সিয়ারের বেশ কিছু একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রথমার্ধে দলের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ পেনাল্টি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলেও ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি তা দেখেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে জিকোর করা একটি অনবদ্য গোল ভিএআরের সাহায্যে বাতিল করা হয়। নাটকের এখানেই শেষ নয়; ম্যাচের ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগ মুহূর্তে মাঝমাঠে মিশরের এক ফুটবলারের জার্সি টেনে ধরেছিলেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস মাক আলিস্তার। কিন্তু রেফারি কিংবা ভিএআর কক্ষ—কেউই সেই ফাউলটি আমলে নেয়নি।
রেফারিংয়ের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ মিশর কোচ আরও বলেন, ‘ফুটবলে কখনো কখনো এমন কিছু অদৃশ্য শক্তি কাজ করে, যা মাঠের খেলার ঊর্ধ্বে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আজ সব স্তরের রেফারি থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এই ফরাসি রেফারির নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম। আজ মাঠে কোনো ফেয়ার প্লে বা সততা দেখিনি। আমাদের একটি নিশ্চিত পেনাল্টি চেক পর্যন্ত করা হলো না, বৈধ গোল বাতিল করা হলো। চোখের সামনে জার্সি টেনে ধরা হলেও ভিএআর নীরব রইল। খেলাধুলাতেও কেন এমন অন্যায় হবে?’ ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতরেই রেফারি ল্যাতেক্সিয়ারের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ানো এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই টুর্নামেন্ট নিয়ে তার সব আগ্রহ শেষ এবং প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি আর এই বিশ্বকাপের একটা ম্যাচও দেখবেন না।