আটলান্টায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে আধিপত্য বিস্তার করে এগিয়ে ছিল মিশর। প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিম এবং পরে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেয় ফারাওরা। কিন্তু শেষ ১৪ মিনিটের ঝোড়ো ফুটবলে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
তবে ম্যাচ শেষে ফলাফলের চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। মিশরীয় শিবিরের দাবি, ম্যাচের একাধিক টার্নিং পয়েন্টে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো একপেশেভাবে তাদের বিপক্ষে গেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়োর্ধে জিকোর করা একটি অনবদ্য গোল ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের সাহায্যে বাতিল করা হয়। এরপর যোগ করা ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহকে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মিশরের ডাগআউটের এক কর্মকর্তা লাল কার্ডও দেখেন।
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত মোস্তফা জিকো রেফারিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক ম্যাচ ছিল না, এটি ছিল একটি পাতানো ও সাজানো ম্যাচ। রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেখে মনে হয়েছে তিনি কোনোভাবেই আমাদের জিততে দিতে চাননি। আর্জেন্টিনার এই জয় তাদের নিজস্ব সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশ নয়। তাই আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার জন্য অগ্রিম অভিনন্দন।’ সতীর্থের মতো একই সুরে ক্ষোভ ঝেড়েছেন প্রধান কোচ হোসাম হাসানও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ম্যাচে ন্যূনতম ফেয়ার প্লে বা ন্যায্যতা ছিল না। রেফারি অন্যায্যভাবে একটি দেশের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমকে নষ্ট করে দিয়েছেন এবং এই বিশ্বকাপের গন্তব্য আগে থেকেই আর্জেন্টিনার দিকে নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।