ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস: ৫ জেলায় ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির শঙ্কা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:০১ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সক্রিয় থাকা অত্যন্ত প্রবল মৌসুমি বায়ুর যৌথ প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে শুরু করে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের ৫টি পার্বত্য ও উপকূলীয় জেলায় মুষলধারে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই ৩ দিনে জেলাগুলোতে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ মোট বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি এবং সমতল এলাকায় আকস্মিক বন্যার তীব্র সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রের তথ্যমতে, লঘুচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় (৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) দেশের এই অংশে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে। যার মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায় সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৬৫ মিলিমিটার এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বেশ কিছু এলাকাকে ভূমিধসের জন্য 'রেড জোন' বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা; চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড; বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা এবং পুরো রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা।

দুর্যোগের এই ভয়াবহতা মাথায় রেখে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে কিছু জরুরি ও বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দেওয়া সমস্ত আইনি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার খবরাখবর পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে কিংবা অতিঝুঁকিপূর্ণ পাদদেশে বসবাসরত নাগরিকদের কালবিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারে থাকা প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সবার আগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ি ছাড়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ফার্স্ট এইড ও জরুরি ওষুধপত্র, টর্চলাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই কাঠি এবং অন্তত তিন দিনের ব্যবহার্য সুতি কাপড় সাথে রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জমিজমার দলিল বা মূল্যবান শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র পলিথিনে মুড়িয়ে সুরক্ষিত রাখতে বলা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংকগুলো আগে থেকেই শতভাগ চার্জ দিয়ে প্রস্তুত রাখা, প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে যে, উপর্যুপরি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই বন্যার করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে পাহাড়ের পাদদেশের নদী বা পাহাড়ি ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিজ নিজ বাসস্থানের চারপাশের জল নিষ্কাশনের নালা ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা না হয়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে আলো ও পানির পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা, জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ বা জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা এবং দুর্গত জনগণের মাঝে দ্রুততম সময়ে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর