কাতারের ঐতিহাসিক রূপকথার পর চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের অবিশ্বাস্য ছন্দ ধরে রেখেছে উত্তর আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো। তবে গত আসরের সেমিফাইনালে যাদের কাছে হেরে অ্যাটলাস লায়নদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল, সেই একই প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিপক্ষে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিশোধের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে আশরাফ হাকিমির দল। আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেমিফাইনালে ওঠার এই মহাসংগ্রামে নামার আগে মরক্কো শিবিরে আছড়ে পড়ল এক বড় ধাক্কা। চোটের কারণে ফর্মে থাকা দলের অন্যতম প্রধান তারকা ফুটবলারকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না তারা।
কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে খেলার মাত্র ২২ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারকা উইঙ্গার ইসমায়েল সাইবারি। সেই চোট এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় ফ্রান্সের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাইবারির খেলা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ উয়াহবি। বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
কোয়ার্টার ফাইনালের মতো বড় মঞ্চ, সেখানে প্রতিপক্ষ কিলিয়ান এমবাপের উড়তে থাকা ফ্রান্স। এমন কঠিন ম্যাচের আগে সাইবারিকে নিয়ে মরক্কোর কোচ উয়াহবি বলেন, ‘সে এখনো মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তবে এখনই তার বিশ্বকাপ আসর শেষ হয়ে যায়নি।’ গ্রুপ পর্বে মরক্কোর তিনটি ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ শেষে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিতে যাওয়া এই তারকা। এমনকি শেষ ৩২–এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শেষ সফল শটটি নিয়েছিলেন এই সাইবারি। ফ্রান্সের বিপক্ষে রণকৌশল নিয়ে মরক্কোর কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের কোনো গোপন কৌশল বা চমক পছন্দ নয়। যারা আমাদের খেলা বিশ্লেষণ করেছেন, তারা জানেন যে আমাদের খেলার পরিকল্পনা একদম পরিষ্কার। আমরা বল পায়ে রেখে ধৈর্য ধরব এবং সুযোগ বুঝে উইং ও মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণে উঠব।’
চার বছর আগের সেমিফাইনালের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া হলে ওয়াহবি দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ ভিন্ন। ২০২২ সালের মতো সবকিছু এক হবে না। এখন আমাদের ভিন্ন দল আছে, আবার ফ্রান্স দলও আগের চেয়ে আলাদা। দুই দেশের ফেডারেশনই দারুণ কাজ করেছে।’ শেষ আটে ওঠাকেই বড় সাফল্য মানতে নারাজ এই কোচ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ফ্রান্স হয়তো ফেভারিট, কিন্তু জয়ের জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব। এই পর্যায়ে পৌঁছানোটা কোনো বাড়তি প্রাপ্তি বা বোনাস নয়, আমাদের আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয় করা।’