২৪ ঘণ্টা পর নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ট্রফির লড়াই। নিজের সাবেক ছাত্র লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেন কোচ এতটাই শান্ত যে সাংবাদিকদের সাথে রসিকতা করতেও ছাড়লেন না। হাসতে হাসতে দে লা ফুয়েন্তে বলেন,
“আমার আসলে একটু ভয় করছে। কারণ আমাদের টিম হোটেলে হেলিকপ্টারে করে ফিরে যেতে হবে। আমরা এসেছিলামও হেলিকপ্টারে। এই প্রেস কনফারেন্স শেষ হতেই আমাদের আবার আকাশে উড়াল দিতে হবে। এই ওড়ার ব্যাপারটা সত্যিই আমাকে একটু উদ্বিগ্ন করে তুলছে!”
ম্যাচের মাঠের চাপ উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “হেলিকপ্টার ছাড়া আর কোনো কিছু নিয়ে আমার মনে ভয় নেই। আমি একদম শান্ত আছি। আমরা ফুটবল বিশ্বের এমন একটি গৌরবময় পরিস্থিতিতে থাকতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি।”
২০১০ সালের পর প্রথম সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মিশনে থাকা স্পেনের এই মাস্টারমাইন্ড ফুটবল দুনিয়ার পুরোনো প্রবাদ ‘রানার্সআপদের কেউ মনে রাখে না’—উক্তিটিকে সরাসরি নাকচ করে দেন। শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ট্রফির জন্য লড়াইয়ের এই চূড়ান্ত মঞ্চে পৌঁছানোকেই তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, “আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জয়ের মতো একটি অবস্থানে থাকা, ফাইনালে পৌঁছানো। আমি প্রতি বছর বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে হেরে গেলেও খুশি হতাম। কারণ ফাইনালে পৌঁছানো এবং বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ের এই অনন্য সুযোগ পাওয়াটাই আসল কথা।”
আর্জেন্টিনা ম্যাচটিকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের চেয়ে খাঁটি কৌশলগত এবং প্রতিভার যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর মতে, স্পেন এবং আর্জেন্টিনা—উভয় দলের খেলার ধরন, ফুটবলীয় চেতনা এবং খেলোয়াড়দের প্রতিভার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। দুটি শীর্ষস্তরের দলের এই লড়াইয়ে কোনো নেতিবাচক কৌশল নয়, বরং মাঠের মেধা, ফুটবলীয় সৌন্দর্য ও খাঁটি শৈল্পিক ফুটবলই অন্য যেকোনো বিষয়ের ওপর জয়ী হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাসী এই স্প্যানিশ ডিরেক্টর।