২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের রবিবাসরীয় মেগা ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ফাইনালের আগে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক মাস্টারমাইন্ড কোচ পেপ গার্দিওলা। ফাইনালিস্ট দুই দলের দুই প্রধান সেনানী লিওনেল মেসি ও রদ্রি—দুজনেরই ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে এই স্প্যানিশ কোচের হাত ধরে। বার্সেলোনায় মেসির জাদুকরী উত্থান যেমন গার্দিওলার অধীনে, তেমনি ম্যানসিটিতে রদ্রিকে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার হিসেবে তৈরি করেছেন তিনিই। এমনকি দুজনেই তাঁর কোচিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। সাবেক দুই শিষ্যের এই বিশ্বমঞ্চের লড়াই গার্দিওলার জন্য ভীষণ আবেগের হলেও, একজন স্প্যানিশ হিসেবে রদ্রির হাতেই ট্রফি দেখতে চান তিনি।
মাঠে মেসির মতো চোখধাঁধানো ড্রিবলিং বা জাদুকরী স্কিল না দেখালেও স্পেনের ফাইনালে ওঠার নেপথ্য কারিগর ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়া কিংবা নিচে নেমে রক্ষণভাগকে সামলানো—মাঠের প্রতিটি ঘাসে নিজের উপস্থিতির জানান দেন এই তারকা। সদ্য সমাপ্ত মৌসুম শেষে ম্যানসিটির কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো গার্দিওলার মতে, স্পেনের বিশ্বজয়ের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এই মিডফিল্ডারের পায়েই।
এক সাক্ষাৎকারে গার্দিওলা নিজের রণকৌশলগত বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রদ্রির পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। রদ্রি যদি মাঝমাঠে পেদ্রি ও লামিন ইয়ামালের সঙ্গে মিলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখতে পারে এবং সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে স্পেনই ম্যাচে মূল পার্থক্য গড়ে দেবে।’
তবে কাজটা যে স্পেনের জন্য মোটেও সহজ হবে না, তা রদ্রিদের মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি এই কিংবদন্তি কোচ। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসিকে নিয়ে তাঁর মুগ্ধতা যেন এখনো আগের মতোই সতেজ। গার্দিওলা বলেন, ‘অনেকেই আমার কাছে জানতে চায়, ৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি কীভাবে এমন অবিশ্বাস্য স্তরের ফুটবল খেলছে। আমি সোজা বলি, এটাই মেসি। ফুটবল ইতিহাস এমন দ্বিতীয় কাউকেই কখনো দেখেনি। সময়ের নিয়মে বয়সের কাছে সবাইকে হার মানতে হয়, কিন্তু মেসির সামনে এসে বয়স নিজেই থমকে গেছে। ফুটবলে তাঁর প্রতিটি ছোঁয়া এবং নিখুঁত পাসে প্রতিপক্ষের জন্য চরম বিপদ লুকিয়ে থাকে। সে নিজে মাঠে খুব বেশি দৌড়ায় না, কিন্তু নিজের ক্ষুরধার মস্তিস্ক দিয়ে মাঠের সবাইকে দৌড়ের ওপর রাখে।’
মেসির খেলার ধরন ও দূরদর্শিতার প্রশংসা করতে গিয়ে গার্দিওলা এক অদ্ভুত দাবি করেন। তাঁর মতে, ‘মেসির ফুটবল মস্তিষ্ক মাঠের অন্য সাধারণ খেলোয়াড়দের চেয়ে অন্তত ১০ সেকেন্ড এগিয়ে থাকে। সে অনেক আগেই বুঝে যায় পরবর্তী মুহূর্তে কী হতে যাচ্ছে। আর ওই অতিমানবীয় মস্তিষ্কের কাছেই সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। ৩৯ বছর বয়সে ফুটবল ইতিহাসের প্রায় সব কিংবদন্তিরা যখন ধারাভাষ্য কক্ষে বসে খেলা বিশ্লেষণ করেন, মেসি তখনো মাঠের সবুজ ঘাসে নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। ফুটবল বিশ্বে মেসির মতো জাদুকর আর দ্বিতীয় কেউ কখনো আসবে না।’