দেশে হামের উপসর্গে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ১১৩ জনের শরীরে মারাত্মক হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগে এবং বাকি একজন সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত ৭৮৮ জনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। আর বাকি ৬৯৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৩০২ জন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিলেটে ৯৮ জন, রাজশাহীতে ৮৯ জন, ময়মনসিংহে ৬৬ জন, চট্টগ্রামে ৫৫ জন, বরিশালে ৪৩ জন, খুলনায় ৩১ জন এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে সবচেয়ে কম ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৩৭ জন শিশু। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৬ হাজার ৫২১ জন।
অধিদপ্তরের সামগ্রিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার 6৪৮ জনে। আর এই বিশাল সংখ্যক রোগীর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষা ও রোগতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১ জনের শরীরে। হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে হামের এই প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।