ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাজধানীর পথে ডিএমপি:

আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকার ১২০ মোড়ে চালু হচ্ছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:১৪ পিএম

বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী ঢাকা মেগাসিটির দীর্ঘদিনের ক্রনিক সমস্যা ও অভিশাপ হিসেবে খ্যাত তীব্র যানজট নিরসনে এবং ট্রাফিক অবকাঠামো আধুনিকায়নে এক বৈপ্লবিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর ১২০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মোড়কে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে। আধুনিক ও বিশ্বমানের এ ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে রাজধানীর ১২টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে সফলতার সাথে সচল রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এ সিগন্যাল সমৃদ্ধ পয়েন্টের সংখ্যা ৬০টি অতিক্রম করবে বলে জোরালো আশা ব্যক্ত করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

শুধু অটোমেটিক সিগন্যাল স্থাপনই নয়, ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক নকশা পর্যালোচনা করে যানজটের স্থায়ী সমাধানকল্পে বিগত প্রায় এক বছরে ঢাকার অন্তত ৭৫টি জটিল পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন, রোড চ্যানেল ও সিগন্যাল পয়েন্টের প্রকৌশলগত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস (GPS) ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্রীয় কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল ও গাড়ি চলাচলকে আন্তর্জাতিক মানের টেকসই শৃঙ্খলায় রূপ দেওয়ার দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান এসব তথ্য বিশদভাবে উন্মোচন করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সংক্রান্ত বর্তমান সাংগঠনিক জনবল ও কাজের চ্যালেঞ্জ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিক শাখায় দায়িত্বপালনকারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ১০০ জন। কিন্তু কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের নিয়মিত ছুটি, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির কারণে বাস্তবিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ জন ট্রাফিক সদস্যকে রাজধানী ঢাকার ৬৬৮টি মূল ট্রাফিক পয়েন্ট সামাল দিতে হয়। এর মধ্যে আবার শহরের ২৫টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে দিনে তিনটি পৃথক শিফটে এবং অবশিষ্ট অধিকাংশ সাধারণ পয়েন্টে দুইটি শিফটে ডিউটি বণ্টন করতে হয়।

পর্যাপ্ত লোকবলের সংকট থাকলেও সীমিত জনবল দিয়ে কার্যকর সার্ভিস নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মডিফিকেশনের ওপরই প্রধান জোর দিচ্ছে ডিএমপি। এই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আসাদ গেটের চার রাস্তার মোড়ের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অসামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ সময় যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হতো এবং সেখানে সার্বক্ষণিক ৮ জন ট্রাফিক সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিন্তু অতি সম্প্রতি ওই মোড়ে সরাসরি গাড়ি পারাপার বন্ধ রেখে বামে বাঁক নিয়ে কিছুটা সামনে গিয়ে সুবিধাজনক স্থান থেকে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করায় বাম লেন সব সময় সচল থাকছে। এতে গাড়ির চাকা আর থেমে থাকছে না এবং সেখানে ডিউটিতে নিয়োজিত ট্রাফিক সদস্য সংখ্যাও ৮ জনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের ডাইভারশন ও সড়ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর এবং কালশী ফ্লাইওভারের নিচের মোড়গুলোতে।

ঢাকার বৈচিত্র্যময় ট্রাফিক বাস্তবতা তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর সড়ক কাঠামোগতভাবে শতভাগ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্দিষ্ট ডিগ্রি কোণে বাঁক রেখে প্রকৌশলগতভাবে নির্মাণ করা হয়। তবে ঢাকা শহরের সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শুরু থেকেই সেভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে ওঠেনি। এ কারণে পুরোপুরি কম্পিউটারচালিত অ্যালগরিদমভিত্তিক অটোমেটিক ব্যবস্থা হুট করে প্রয়োগ করা অসম্ভব। তাই ট্রাফিক পরিস্থিতি এবং সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত চাপের সময়ে সময় বাড়িয়ে বা কমিয়ে সিগন্যাল পরিচালনা করা যায়।

নগরবাসীর ট্রাফিক সচেতনতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, বিগত দুই মাসে নাগরিকেরা সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন মানতে অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছেন। যার ফলে রাস্তায় আগের মতো অযথা দীর্ঘ ঘণ্টা গাড়ি আটকে থাকার ঘটনা অনেক কমেছে। তবে অতিবৃষ্টিতে শহরের জলজট সৃষ্টি হওয়া এবং হঠাৎ রাজনৈতিক ও দাবি-দাওয়ার মিছিল-সমাবেশ বা সড়ক অবরোধ গোটা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ওয়াসা, ডেসকো বা তিতাসের মতো বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনভাবে হঠাৎ করে মাঝরাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলা এবং ট্রাফিক সিগন্যালের ভূগর্ভস্থ তার কেটে ফেলার কারণে প্রায়ই দুর্ভোগ বাড়ে। সকল খাতের সরকারি সমন্বয় এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ বাড়লে এই সেমি-অটোমেটিক সিগন্যাল ব্যবস্থার সুফল ঢাকা শহরের লাখ লাখ যাত্রী প্রতিদিন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর