ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

খুব শিগগির পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির পদে আসন্ন এক বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক কাঠামোর এক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার ওই সূত্রটি আরও জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে ইতিমধ্যে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত হতে সামান্য বিলম্ব হলেও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে অতি দ্রুত পদত্যাগ করছেন, সে বিষয়ে কোনো প্রকার সংশয় নেই।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একক মনোনয়নে তিনি কোনো প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই দেশের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর স্বাভাবিক পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এই নজিরবিহীন পটপরিবর্তনের পর দেশের সার্বিক রাজনীতি ও প্রশাসনিক নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তৎকালীন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ দেশজুড়ে রাজপথে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালিত হয়। অবশ্য সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর এক বক্তব্যে সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি তাঁর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে স্বজ্ঞানে পদে ইস্তফা দিতে চান। একই সময়ে তিনি আরও আক্ষেপ ব্যক্ত করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে তিনি মানসিকভাবে অপমানিত বোধ করেছেন।

পরবর্তীতে দেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠন করার পর, চলতি ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, নবগঠিত সরকার চাইলে তিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যথায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে পদত্যাগ করলে পরবর্তীতে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন।

বিএনপি নতুন করে সরকার গঠন করার পর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ না নিলেও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছিল। মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান এবং নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় এক পরিবর্তন ঘটবে। এর ফলে এককভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানোর সুযোগ পাবে বিএনপি। আগামী দিনের পুরো জাতীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে থাকায়, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান—তা নিয়ে দেশজুড়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক কৌতুহল।



এ সম্পর্কিত আরো খবর