শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক এই মৃত্যুর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহের থেকে প্রাপ্ত সার্বিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানা গেছে যে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ৮১০ জন শিশুর অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যু ঘটেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক মৃতের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে ৯৫ জন শিশুর। এছাড়া হামের স্পষ্ট বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর মারা গেছে আরও ৭১৫ জন শিশু।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রদত্ত তথ্যমতে আরও জানা যায়, একই সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে সরাসরি হামে আক্রান্ত বা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৯৪ জনে। এর পাশাপাশি হামের তীব্র লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে এসেছে অন্তত ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন সাধারণ রোগী।
এই বিশাল সংখ্যক রোগীদের মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জনকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব ভুক্তভোগী রোগীদের মধ্য থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন সাধারণ রোগী ও শিশু নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে বাড়তি নজরদারি ও নিবিড় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।