জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নেশা করতে করতে এখন সব রাজনৈতিক পরিভাষা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে বলে অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যু ও বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে এসব বিস্ফোরক কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অত্যন্ত সম্মানিত ও সংগ্রামী মহাসচিবকে নিয়ে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছে তা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতিরিক্ত নেশা করতে করতে এখন সুস্থ মস্তিষ্কে রাজনৈতিক বাস্তবতা চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এবং সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।
বিএনপি মহাসচিবের রাজনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চরম দুঃশাসনের জমানাতেও তিনি শত জেল-জুলুম ও চাপের মুখেও আওয়ামী লীগের অন্যায় এবং অপশাসনের কাছে কখনো মাথা নত করেননি।
গণঅভ্যুত্থানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আদৌ কোনো সামনের সারির নেতৃত্বের জায়গায় ছিল না। সে কেবল তৎকালীন ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের সাথে সাধারণ একজন অনুসারী হিসেবে ঘোরাফেরা করত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসা হাজারো সাধারণ ও মুক্তিকামী আন্দোলনকারী যেভাবে নাহিদ ইসলামদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসেছিল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছিল ঠিক তেমনই সাধারণ একজন অংশগ্রহণকারী মাত্র। সে ওই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় মোটেও কোনো নেতা বা মূল চালিকাশক্তি ছিল না। আন্দোলনের সময় প্রকাশিত কোনো অফিসিয়াল সমন্বয়কের তালিকায়ও কিন্তু তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের ভয় এবং আইনি শাস্তির আতঙ্কেই মূলত সে আন্দোলনের সময় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের তালিকায় সচেতনভাবে নিজের নাম লেখায়নি। অথচ আজকের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে সে নিজেকে একজন বিশাল ও সফল বিপ্লবী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের তুলনা করে বলেন, আজকের এই উন্মুক্ত ও মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে বিপ্লবী সাজা আর তৎকালীন শক্তিশালী আওয়ামী শাসনের কঠিন সময়ে জীবন বাজি রেখে বিপ্লবী হওয়া কখনোই এক বিষয় নয়।
নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের চরম দুঃশাসনের সময় আমরা প্রতিনিয়ত অসংখ্য মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, কারাবাস ও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়ে রাজপথে টিকে ছিলাম। সেই কঠিন ও রক্তাক্ত সময়ে এই ধরনের তথাকথিত নেতারা কোথায় লুকিয়ে ছিল যে আজ তারা রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বড় বড় কথাবার্তা বলছে?
তিনি ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, বর্তমানে দেশের সচেতন সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের সবাই তাকে একজন নীতিভ্রষ্ট ও নষ্ট রাজনীতিবিদ হিসেবেই আখ্যায়িত করছে। রাশেদ খান সতর্কবার্তা দিয়ে জোর দিয়ে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই অরাজনৈতিক আচরণের কারণেই ভবিষ্যতে তার বর্তমান রাজনৈতিক দল এনসিপির চরম পতন ঘটবে এবং দলটির এই ধ্বংসের জন্য একমাত্র এই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীই সর্বতোভাবে দায়ী থাকবে।