ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:৫২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং শারীরিক সক্ষমতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ধরনের নীতিনিষ্ঠ মূল্যায়ন সেনাবাহিনীতে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ সেনাবাহিনীর পেশাদার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং শারীরিক সক্ষমতাই পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। এখন কেবল সীমান্ত রক্ষা নয়, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কৌশল অনুসরণ করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার বিশ্বাস, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত। সেই লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়; বরং সম্ভাব্য সংকট, আগ্রাসন কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলায় আত্মনির্ভরশীল, স্থিতিশীল ও সর্বদা প্রস্তুত একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা।

তিনি জানান, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন করছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হলে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের দক্ষ ও দূরদর্শী সামরিক নেতৃত্ব তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সাফল্যে তিনি গর্ব অনুভব করেন এবং কোনো নেতিবাচক ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি বোধ করেন। ক্যান্টনমেন্টের সঙ্গে নিজের আবেগ ও স্মৃতির সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শৈশব ও তারুণ্যের একটি বড় অংশ সেনা পরিবেশে কাটানোর কারণে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই অবগত।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সেনাবাহিনীর ইতিহাসে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় তার নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব সেনাবাহিনীতে নতুন আস্থা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ডার রোড প্রকল্প দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন সেনাসদস্যের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে মর্যাদা অর্জন করেছে।

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান ও মালিতে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্নে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটকালেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা পরিস্থিতি এবং জাতীয় যেকোনো সংকটে সেনাবাহিনী সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো সেনাবাহিনীও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশে জনগণের আস্থা অর্জনে বাহিনীকে আরও দক্ষ, পেশাদার ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠতে হবে।

শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মার্কিন জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার।’ তাই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ফিটনেসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, সাফল্য ও গৌরবের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।



এ সম্পর্কিত আরো খবর