ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা

আগুনে পুড়ল ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের ভয়াবহতম দাবানল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:০৬ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়ার তাণ্ডবের মধ্যে ফ্রান্সের পরিস্থিতি চরম অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত শহর বোর্দোর মাত্র ১৫ কিলোমিটার বা ৯ মাইল দূরে এসে পৌঁছে গেছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দাবানল। এই পরিস্থিতি সামনে গিয়ে আরও বহুগুণ খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বলে জরুরি ভিত্তিতে সতর্ক করেছেন শহরটির দায়িত্বশীল মেয়র থমাস কাজেনাভ। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়ার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই সংকটজনক অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।

বর্তমানে উদ্ভূত সংকটের তীব্রতা অনুধাবন করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্বয়ং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন পরিচালনা করেন। পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি বিষাদঘন কণ্ঠে বলেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী দাবানল। তিনি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান যে, তীব্র খরাজনিত তাপমাত্রা ও প্রচণ্ড বাতাসের গতিবেগের কারণে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে এ পর্যন্ত পুরো ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষকে জরুরিভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল দেশটির জিরোন্দ অঞ্চলেই প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর উর্বর জমি ও সুন্দর বনাঞ্চল আগুনে পুরে ছাই হয়ে গেছে এবং অন্তত ২৪০টি আবাসিক বসতবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। যার ফলে হাজার হাজার পরিবার এখন সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত।

একই সময়ে ফ্রান্সের প্রতিবেশী রাষ্ট্র স্পেনেও প্রায় একই ধরনের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া তীব্র আগুনের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। স্পেনে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর পাহাড়ি ও সমতল এলাকা পুড়ে গেছে এবং বিশাল এই আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ফ্রান্সের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সামগ্রিক পরিস্থিতি সামনে এনে জানান যে, চলতি বছরের একদম শুরু থেকে পুরো ফ্রান্সে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি সবুজ এলাকা আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং এই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি পৃথক দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতামত ও পর্যবেক্ষণ মতে, দেশে ঘটা প্রতি ১০টি দাবানলের মধ্যে ৯টিই মানুষের অসাবধানতা, বেপরোয়া আচরণ বা ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানোর কারণে ঘটছে, যা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তৈরি হওয়া এই তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে প্রতিনিয়ত আরও জটিল ও অনিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর