ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে সিইসির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১২:২২ পিএম

সংবিধান অনুযায়ী দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের আইনি ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভিভাবক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনে গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত স্পিকারের সুসজ্জিত কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান বাছাইয়ের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নানা খুঁটিনাটি দিক ও সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং তাহমিদা আহমদ বৈঠকে সক্রিয়ভাবে মতামত দেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবও নিজ নিজ প্রশাসনিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে এই আন্তঃ প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক কারিগরি প্রস্তুতি, সংসদের আসন সংখ্যা ও সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক জটিল বিষয়াবলি সমাধান নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা হয়েছে। শূন্য পদে নির্বাচন সম্পন্ন করার যে আইনি সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে, তার আলোকেই পুরো প্রক্রিয়াটি কত দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, দেশের বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটি বেগবান হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও দায়ভার বহনে বাধ্য থাকেন। সেই সাংবিধানিক অনুশাসন মেনেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মহতী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায়, জাতীয় সংসদের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্বে সমাসীন হয়ে সংসদীয় সভা ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের স্পষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ খালি বা শূন্য হলে তা তৈরি হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও দিন গণনার হিসাব হিসাব মতে, আগামী অক্টোবর মাসের ২২ তারিখের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে। সাংবিধানিক এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই।

সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে জাতীয় সংসদের আসন্ন পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে আশা করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ধারা বজায় রেখেই সকল সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত বা নিয়মতান্ত্রিক অংশগ্রহণে এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সম্পন্ন করা হবে।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এই প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর, কমিশন নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে উপযুক্ত ও সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করবে। এরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর স্পষ্ট অনুশাসন ও ক্ষমতা বলে নির্বাচন কমিশন সার্বিক তপশিল আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করবে।

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দেশের সাধারণ নাগরিকেরা সরাসরি ভোট প্রদান করেন না; বরং জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ও গেজেটভুক্ত সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট ৩৪৯ জন গেজেটভুক্ত সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে একটিমাত্র নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত গেজেট আইনি ও কারিগরি কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, যা বাদ রেখে বাকি সংসদ সদস্যরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পরবর্তীতে যে আনুষ্ঠানিক তপশিল প্রকাশ করা হবে, তাতে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র জমার নির্দিষ্ট তারিখ, জমা পড়া আবেদনপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই, বৈধ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা এবং চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের দিন, তারিখ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া থাকবে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মূল ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ অধিবেশন কক্ষেই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা মেনে পরিচালিত হবে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচনের জন্য অংশ নিতে হলে তাঁর নামে প্রস্তুত করা বিশেষ মনোনয়নপত্রে একজন বর্তমান সংসদ সদস্যকে 'প্রস্তাবক' হিসেবে লিখিত স্বাক্ষর করতে হয় এবং অপর আরেকজন সংসদ সদস্যকে 'সমর্থক' হিসেবে অনুমোদন দিয়ে সই করতে হয়। একই সাথে উক্ত মনোনয়নপত্রে পদপ্রার্থী ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে নিজের সম্মতি জানিয়ে নিজস্ব স্বাক্ষর প্রদান করবেন।

যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থীর বদলে একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যান, তবে জাতীয় সংসদের সকল সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। নির্ধারিত সময় শেষে সমস্ত ব্যালট বাক্সে জমা পড়া ভোট গণনা শেষ করে সর্বোচ্চসংখ্যক কার্যকর ভোট পাওয়া প্রার্থীকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ও নির্বাচিত বলে ঘোষণা করবেন। তবে সংসদ সদস্যদের ভোটে যদি একাধিক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আইনের অনুশাসন মেনে লটারির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে বিজয়ী প্রার্থী ও চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর