ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি: দীনেশ ত্রিবেদী


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:২৭ পিএম

বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানানোর জন্য দেশটির সরকার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইতোমধ্যে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এই আশাবাদ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কবে নাগাদ হতে পারে—সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করাটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারি যে, আমরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে দিল্লিতে স্বাগত জানানোর জন্য অত্যন্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমরা আশাবাদী যে খুব শিগগিরই এই বহুপ্রত্যাশিত সফরটি বাস্তবায়িত হবে।”

জানা গেছে, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্র না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ওই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক সাক্ষাৎ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আজকের বৈঠকটি সবদিক থেকেই অত্যন্ত চমৎকার ও গঠনমূলক হয়েছে। আমি মনে করি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিশীলতায় এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও মাইলফলক পদক্ষেপ। সম্পূর্ণ আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে উভয় পক্ষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য ও আলোচনার বিষয়গুলো একেবারেই অভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি খেলাধুলার অঙ্গনে—বিশেষ করে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে—আমাদের পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে অত্যন্ত উন্মুক্তভাবে কথা বলেছি।”

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অত্যন্ত আনন্দিত, আশাবাদী ও কৃতজ্ঞ মনে ফিরে যাচ্ছি। আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন যে, আমরা সাধারণ নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার্থে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত করে দিয়েছি; যাতে উভয় দেশের সাধারণ মানুষই এর সুফল ও বহুমুখী সুবিধা ভোগ করতে পারে।”

ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ঐতিহাসিকভাবে অনন্য আখ্যা দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের এই মেলবন্ধন কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবেও সুদৃঢ়। আমরা কেবল দীর্ঘ স্থলসীমান্তই ভাগাভাগি করি না, আমাদের অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির স্বপ্নও অভিন্ন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের বৈঠকটি খুব ভালো একটি সূচনা। আমি ভবিষ্যতে এমন একটি কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তিই হবে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি। এটি কেবল সুন্দর একটি কাজের শুরু, আমরা ভবিষ্যতে প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে যাবো।”

দ্বিপাক্ষিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন নদী তিস্তা ও গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আজকের এই সাক্ষাৎটি মূলত পরিচয় পর্ব ও সৌজন্যমূলক আলোচনার উদ্দেশ্যে ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সদিচ্ছা ও আস্থা থাকলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমন কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই, যা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। দিনশেষে মূল লক্ষ্যটা হলো দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কল্যাণ সাধন। উভয় দেশের গণতন্ত্র ও সাধারণ জনগণের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে সেটাই নিশ্চিত করা হবে।”

হাইকমিশনার জানান, পানি চুক্তির মতো সংবেদনশীল কারিগরি বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষের অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তারা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা অব্যাহত রাখবে। এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে এবং আশা করা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরেও এসব সামগ্রিক বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর