রাজধানীর রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে মেরাদিয়া এলাকায় দুটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় সকালে কর্মস্থলে ও গন্তব্যে ছোটানো হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোর ৪টার দিকে বৃষ্টির কারণে মেরাদিয়া এলাকায় প্রধান সড়কে পানি জমে যায়। ঠিক ওই সময় দুটি ট্রাক বিকল হয়ে সড়কের মাঝখানে আটকে পড়ে। এর ফলে নতুনবাজার, বাড্ডা ও মেরাদিয়া হয়ে রামপুরা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে আটকে থাকে।
দীর্ঘক্ষণ যানবাহনে আটকে থাকার পর চরম বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। কেউ অফিসে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, আবার কেউ জরুরি কাজে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ সময় নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মূল সড়কে তীব্র যানজটের কারণে নতুনবাজার থেকে বাড্ডা লিংক রোড ব্যবহারকারী আলিফ ও বৈশাখী পরিবহনের মতো বেশ কয়েকটি গণপরিবহনকে গুলশান-২ হয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়। এতে করে ওই বিকল্প রূপ রূপ নেওয়া সড়কেও হঠাৎ যানবাহনের বাড়তি চাপ বেড়ে যায়। তবে রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোডগামী প্রধান সড়কে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের রামপুরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, ‘ভোরে সড়কে বিকল হয়ে পড়া দুটি ট্রাকের মধ্যে একটিকে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্য ট্রাকটি অপসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। দুটি ট্রাক সড়কের মাঝখানে বিকল হওয়ায় ওই নির্দিষ্ট অংশে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব দ্রুত নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।’