ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে সম্মত মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:২৮ পিএম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।

বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এ তথ্য জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।

জনসভায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার নাগরিকরা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মিয়ানমার এতদিন তাদের গ্রহণ করতে রাজি ছিল না। সম্প্রতি আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে। এ ধরনের বিষয়ে সতর্ক ও কার্যকর কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক শক্তিশালী থাকলে জটিল মানবিক সমস্যারও সমাধানের পথ তৈরি হয়। এ কারণেই প্রতিবেশী ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে হামলার পর দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এরপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশ সরকার তাদের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার কুতুপালংসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে স্থান দেয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান শুরু করে।

বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরগুলোর একটি হিসেবে কুতুপালং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছেন।

জনসভায় আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শরণার্থীদের অনুমোদিত এলাকা ও শিবিরের বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অবস্থান না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। কেউ আইন ভঙ্গ করলে বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাদের গ্রহণ করবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসভায় জানাননি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর