ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

জুলাই বিপ্লবের আসামিদের ‘বাড়িওয়ালা কল্যাণ কমিটি’তে অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী


  • আপলোড সময় : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩৫ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার:

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৪ নং ওয়ার্ডের খাঁ-পাড়া এলাকায় একটি 'বাড়িওয়ালা কল্যাণ কমিটি' অনুমোদনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ওয়ার্ড সচিবের স্বাক্ষরযুক্ত উক্ত বিতর্কিত কমিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা হত্যা মামলার আসামি এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘোষিত নবগঠিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত মো. হাতেম খান মাস্টারকে সভাপতি এবং মো. মোশাররফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাতেম মাস্টার পূর্বে নারী কেলেঙ্কারির সাথেও জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যখন আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন, ঠিক তখনই সামাজিক কল্যাণমূলক কমিটির আড়ালে তাঁদের পুনর্বাসন ও নতুন করে সামাজিক বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের মতো একটি দায়িত্বশীল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ড সচিবের স্বাক্ষর ব্যবহার করে কীভাবে বিতর্কিত ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে এমন কমিটি অনুমোদন পেল—তা নিয়ে সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা সচিবের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। খাঁ-পাড়া রোডে বিএনপির পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কীভাবে এ ধরনের বিতর্কিত কমিটি দেওয়া হলো, তা নিয়েও ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

নিশাত মাহমুদ জালাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "ওয়ার্ড সচিব কোন ক্ষমতাবলে বাড়িওয়ালা কল্যাণ কমিটির অনুমোদন দেন? খাঁ-পাড়া রোডে পরীক্ষিত বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়েই বা এটি কীভাবে সম্ভব হলো?"

একই সুর মিলিয়ে রমজান রুবেল ও মহিন উদ্দিন নামের দুই নেটিজেন পৃথক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, "ওয়ার্ড সচিব নাহিদ পারভেজ কি জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে বাড়িওয়ালা কমিটি করার এখতিয়ার রাখেন?"

এছাড়া রাফি বাবু নামের অপর একজন লিখেছেন, "ওনারা সবাই বাড়িওয়ালা, বাকি সবাই ধইঞ্চা? কে কোন দিক দিয়ে, কোন কমিটি করে নেতা হয়ে যায়—কে বানায় বুঝলাম না! ওয়ার্ড সচিবের ক্ষমতার কোন ধারায় এই কমিটি অনুমোদন হলো?"

এলাকাবাসীর দাবি, একটি অপরাধমুক্ত ও নিরপেক্ষ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই বিতর্কিত কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সাথে, সরকারি প্রশাসনিক পদ ব্যবহার করে অপরাধীদের সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—তার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন জনগণ।

সাধারণ নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় জনগণের আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা করা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অতি দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর