তিনি বলেছেন, "জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।"
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, "জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে আহত হয়েছেন, তাদের নজিরবিহীন আত্মত্যাগের কারণেই দেশের সামনে পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথ ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করেছে। এখন সময় বিভাজন বা সংঘাতের নয়, বরং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার।
মন্ত্রী আরও জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে এবং জাতীয় সংসদে প্রাসঙ্গিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সকল রাষ্ট্রীয় সংস্কার আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ। সাংবাদিকদের স্বার্থ, কাজের নিরাপত্তা ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তব্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই শহীদসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বীরদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের সার্বিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তাদের এই রক্তদান পূর্ণতা পাবে।
অনুষ্ঠানে বিএফইউজে ও ডিইউজে-এর শীর্ষ সাংবাদিক নেতাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।