ঘুষ গ্রহণ, কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি, নারীদের উত্ত্যক্তকরণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ আটটি গুরুতর অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপরেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইমাদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কার্যধারা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপরেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইমাদুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা, ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য ছড়ানো, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণ, হোয়াটসঅ্যাপ ও মুঠোফোনে কুরুচিপূর্ণ বার্তা প্রেরণ এবং নারী শিক্ষার্থী ও নারী কর্মচারীদের উত্ত্যক্ত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্হান নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব আচরণ পবিপ্রবির কর্মচারী আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার একাধিক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগগুলোর গভীরতা ও তদন্তের স্বার্থে রিজেন্ট বোর্ডকে অবহিত রেখে বিধিমালার ৯(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপরেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইমাদুল হক। এগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে।"