ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য রোধে নয়াদিল্লির সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১:০৫ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পলাতক ব্যক্তিরা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে নয়াদিল্লির কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ধরণের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বিদ্যমান ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও ভারত সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পলাতক শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন—সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু তথ্যের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভারতের হাইকমিশনারের সামনে উত্থাপন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির হাইকমিশনারকে স্পষ্টভাবে জানান, ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক ব্যক্তি যাতে প্রতিবেশী দেশের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে নিয়ে উসকানিমূলক রাজনৈতিক মন্তব্য করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এ জাতীয় উসকানিমূলক তৎপরতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে।

জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও মনোযোগের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে যেন কোনো অস্বস্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে ভারত সচেষ্ট থাকবে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সম্পর্কের বহুমুখী দিক এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় স্থান পায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

পরপর দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ ও গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই পক্ষই বিশ্বাস প্রকাশ করে যে, পারস্পরিক আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সকল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন করা সম্ভব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর