ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর কাল প্রকাশ হবে এইচএসসি রেজাল্ট, অনলাইনে জানবেন যেভাবে শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ ভারতে ছয় আরোহীসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু তাহসিফ হত্যা রহস্য: দীপের এলোমেলো বক্তব্যে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করল পুলিশ সাইকেলে ১৯১ দেশ ভ্রমণ: সোমেন দেবনাথের অনন্য কীর্তি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইক উদ্ধার ও দীপের তথ্যে তাহসিফ মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: অমান্য করলে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি উপদেষ্টার


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৪১ পিএম

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তাই শুধু নয়, আইন অমান্যের পরিণতি নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—আদালতের আদেশ অমান্য করে যদি কোনো গণমাধ্যম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার।


সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, সরকার আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশ জারি করেছিল। কেউ যদি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে, তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আইনি দায়িত্ব, আর সরকারের কাজ হলো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া সমীচীন হতো না। কেউ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।


শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সূত্র ধরে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে আন্তরিক। ইতোমধ্যেই ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে গ্রেপ্তারের পর আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং তার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।


শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারে কিংবা অতীতের সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সে সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এমন ঘটনা ঘটে। ফলে এই মুহূর্তে কারা ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের তদন্তের কোনো পরিকল্পনা নেই।


সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য পেতে সরকারের বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্যের ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।


অন্যদিকে, প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব থাকা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ক্ষমতার পটপরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। তবে বিগত ১৫ বছর ধরে যারা প্রশাসনের নানা স্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের একদিনে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। হুট করে সবাইকে পরিবর্তন করলে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা বিঘ্নিত না হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর