যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে প্রায় ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনায় বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। দেশের নির্বাহী বিভাগের এই একতরফা সিদ্ধান্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন মার্কিন এক ফেডারেল আপিল আদালত। রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হোয়াইট হাউস কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; তাই সেখানে এমন বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন বা নতুন স্থাপনা নির্মাণের এখতিয়ার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা বা কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।
ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট এই সিদ্ধান্ত প্রদান করে। বিচারকরা তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, যেকোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এটি স্মরণে রাখতে হবে যে তিনি ঐতিহাসিক এই ভবনের একজন সাময়িক অতিথি মাত্র। তাই কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়া ইচ্ছেমতো সুবিশাল কোনো কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ নির্বাহী বিভাগের নেই।
ইতিপূর্বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশ অর্থাৎ ইস্ট উইং ভেঙে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি সুবিশাল ‘হোয়াইট হাউস বলরুম’ তৈরির কাজ শুরু করা হয়। আইনসভার কোনো অনুমোদন না নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিবাদে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ‘ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন’ আদালতে রিট দায়ের করে। তিন বিচারকের বেঞ্চে দুই বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে প্রকল্পটি স্থগিত করার পক্ষে এই রায় আসে।
সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেশের সমস্ত ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের মতামত প্রদানের অধিকার আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে পুনপ্রতিষ্ঠিত হলো। এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন।
তবে আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় বিচারিক নির্দেশকে সম্পূর্ণ অসংগত, উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রস্তাবিত এই ভবনটি স্রেফ বিনোদনের স্থান নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক নিরাপত্তা কেন্দ্র। তাঁর ভাষ্যমতে, এতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধী ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি সুসজ্জিত বোম্ব শেল্টার ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধাও রাখা হচ্ছিল। ফলে এই নির্মাণকাজ আটকে দেওয়ায় হোয়াইট হাউসের সার্বিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর জন্য প্রশাসন মাত্র ১৪ দিন সময় পাচ্ছে। এই নির্ধারিত সময়ের ভেতর আবেদন জমা না দিলে আপিল আদালতের স্থগিতাদেশই বহাল থাকবে এবং প্রকল্পটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।