ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৮ জনে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চালানো এই জোড়া হামলাকে ২০২২ সালের অস্ত্রবিরতির পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সামরিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মধ্য ইয়েমেনের মারিব ও পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশের একাধিক সেনা ক্যাম্পে একযোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে হুথি বিদ্রোহীরা। এতে ঘটনাস্থলেই বহু সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন আহত হন। ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মারিবের একটি ঘাঁটিতে সেনাদের প্রাতঃকালীন মহড়া চলার সময় নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়লে একস্থানেই ৪৫ জনের মতো সেনাসদস্য হতাহত হন। এর আগে চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রাথমিক সূত্রে নিহত ৩৮ জনের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়ায়।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী ও সৌদি আরবের অব্যাহত উসকানির জবাবেই তারা ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত আঘাত হেনেছেন। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিজেদের সশস্ত্র বাহিনী ‘উপযুক্ত স্থান ও সময়ে’ বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ সব হামলার যোগ্য জবাব প্রদান করবে।
সংঘাত কেবল ইয়েমেনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপ্রাসাদ সূত্র ও সৌদি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তঘেঁষা নাজরান অঞ্চলে হুথিদের ছোঁড়া শেলে শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। জোট বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এই এলোপাতাড়ি হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইয়েমেনও এখন নতুন ও অত্যন্ত সংকটময় ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও আরব নিউজের তথ্যানুসারে, নতুন এই রক্তাক্ত সহিংসতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভঙ্গুর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে চলেছে।