ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরও এক ধাপ এগোলো যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল বা অন্য যেকোনো জ্বালানি কিনলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাবসংবলিত এক বিধিনিষেধ বিল দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে বিলটি সিনেটের অনুমোদন লাভ করে। আইনটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা শুল্ক আরোপের আইনি এখতিয়ার পাবেন।
ইতিপূর্বে সিনেটে প্রাথমিক পদ্ধতিগত বাধা পেরিয়ে আসার পর শুক্রবারের চূড়ান্ত পর্বে ৮৬-১১ বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিলটি অনুমোদিত হয়। বিলের মূল লক্ষ্য হলো— প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত রাজস্ব যেন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারেন, সেই আর্থিক উৎসে সরাসরি আঘাত করা। বিলে বলা হয়েছে, যে সমস্ত দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে, তারা পরোক্ষভাবে ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসনকেই অর্থায়ন ও সমর্থন করছে। বিলটি পাস হওয়ার পরপরই ওয়াশিংটনের এক সিনেটর মন্তব্য করেন, “পুতিনকে আমরা বার্তা দিতে চাই যে তিনি কখনোই ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।”
সিনেটে গৃহীত হওয়ার পর বিলটি এখন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ পেশ করার প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাসের পর তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দপ্তরে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি রূপ নেবে এবং ওয়াশিংটন যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর করতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রধানতম ক্রেতা চীন এবং দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। এ ছাড়া জাপানের পাশাপাশি স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলোও রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে। নতুন এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার পরও যদি দেশগুলো মস্কো থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বাণিজ্যনীতির আওতায় ট্রাম্প ইচ্ছেমতো ১০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারবেন। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তটিকে ইউক্রেন স্বাগত জানালেও চীন, ভারত ও জাপানের বাণিজ্যনীতিতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।