ইরানকে যেকোনো মূল্যে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যেকোনো বহিরাগত চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্প্রচারিত এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো ধরনের বহিঃশক্তির চাপ বা হুমকি মানবে না।
বিশেষ এই অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুদৃঢ় রাখতে ইরান সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাবে। কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক চাপের মুখে অন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষ যদি তেহরানকে নতজানু করতে চায়, তবে ইরানি জনগণ ও সামরিক বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রতিরোধ করবে। ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম বা সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি কমানোর বিষয়ে যেকোনো ধরনের আপসের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আঘাত এলে তা নীরবে সহ্য করবে না তেহরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ত্বরিত ও সুসংগঠিত প্রতিক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষাভিত্তিক এবং ন্যায়সংগত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। পাশাপাশি সামরিক বাহিনী, অ্যারোস্পেস কোর, আইআরজিসি এবং সাধারণ সৈন্যদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পেজেশকিয়ান অভিযোগ তোলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে একজোট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তবে ইরান এই আঞ্চলিক মেরুকরণ ভেস্তে দিতে সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করছে। মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শিয়া-সুন্নি মতভেদকে সংঘাতের হাতিয়ার বানানোর প্রক্রিয়া ইরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কোনো আগ্রাসী মনোভাব বা জমি দখলের ইচ্ছা তেহরানের নেই। বরং ইসরায়েলই 'বৃহত্তর ইসরায়েল' প্রতিষ্ঠার সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমি ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে তিনি ভবিষ্যতে সবাইকে সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যসূত্র অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির কৌশলগত অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করল।